‘কলিকাতা শহর আছে/হাজার দুয়ারি ঘর আছে/সুন্দর একটা দেশ আছে/সেই দেশেতে যুদ্ধ হইলো/লাখে লাখে মানুষ মরলো...।’ এমন গানের সঙ্গে সঙ্গে বায়োস্কোপের খোপে চোখ রেখেছেন পাঁচজন। দেখার আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন আরো সাত-আটজন। গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণে বায়োস্কোপওয়ালা আবদুল জলিল ম-ল। গুগল করে এখন সারা দুনিয়ার সচিত্র বিনোদন হাতের মুঠোয়। ফেইসবুক, ইউটিউব এখন আলাদিনের চেরাগের মতো হাজির ঘরে ঘরে। এমন সময় কেমন চলে জলিল ম-লের বায়োস্কোপ? দর্শকের বিনোদনের খোরাক মিটিয়ে পেটের ক্ষুধা মেটে কি তার? চারুকলা প্রাঙ্গণে এই বায়োস্কোপওয়ালা জলিল জানালেন, রাজশাহীর বাঘমারাতে তার বাড়ি। বাবা-দাদার কাছ থেকেই বায়োস্কোপ দেখানো শিখেছেন। ৪০ বছর ধরে বায়োস্কোপই তার জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। তার ছেলেমেয়ে আছে, তবে তারা কেউ বায়োস্কোপ দেখানোর এই মাধ্যমটিতে আসতে চায় না। আবদুল জলিল ম-ল বলেন, ‘বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধইর্যা রাখনের লাইগ্যাই অহনো এটা করি। অহন তো কেউ বায়োস্কোপ দ্যাহে না।’
কথাগুলোর মধ্যে কিছুটা যেন আক্ষেপ ঝরে পড়ল। জলিলের দাবি, রাজশাহী অঞ্চলের মধ্যে সে একাই এখন বায়োস্কোপ ফেরি করে বেড়ান। বলেন, ‘আমার কোনো শিষ্যও নাই। আমি একলাই এই কাম করি। আমি মরলেই আমার বায়োস্কোপও শেষ।’ বায়োস্কোপ নিয়ে সারা দেশেই ঘুরে বেড়ান জলিল। সরকারি আয়োজনে কোনো মেলা, বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে কেউ কেউ তাকে নিয়ে যান। আগের মতো এখন আর হাটে-মাঠে বায়োস্কোপ নিয়ে ঘোরেন না তিনি। মাঝে মধ্যে বিশেষ দিবসে টেলিভিশন চ্যানেল থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে জানালেন। এরই মধ্যে টেলিভিশনে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশও নিয়েছেন। জলিল বলেন, ‘টেলিভিশনে দেখানোর পর থেকে অনেকেই আমারে দেখলে চেনেন।’
বায়োস্কোপ দেখা শেষ হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিয়ানের সঙ্গে কথা হয়। জানান, প্রথমবার বায়োস্কোপ দেখার অভিজ্ঞতা হলো তার। আরিয়ানের ভাষ্য, ‘ছোটবেলা থেকেই বায়োস্কোপের গল্প শুনেছি। সঞ্জীব চৌধুরীর গাওয়া “তোমার বাড়ির রং এর মেলায় দেখেছিলাম বায়োস্কোপ” গানটা আমার খুবই প্রিয়। কিন্তু বাস্তবে বায়োস্কোপ দেখলাম এই প্রথম। আমার খুবই ভালো লেগেছে।’
×
