বেপরোয়া দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পটুয়াখালীর দুমকির ঐহিত্যবাহী পীরতলা খাল। ক্রমাগত দখলে তীর ভরাট হয়ে থেমে গেছে পানিপ্রবাহ। এছাড়া নির্বিচারে বর্জ্য ফেলায় বাড়ছে দূষণ। এভাবে চলতে থাকলে পুরোপুরি ভরাট হয়ে খালটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শ্রীরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম সালাম জানান, অবৈধ দখল ও ময়লা আবর্জনায় এটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। কৃষিকাজে পানির অভাব পূরণকারী এক সময়ের এই খালে আর নেই জলধারা। অন্যদিকে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ। দখলমুক্ত করে খালটি পানি প্রবাহের উপযুক্ত করা মানুষের দাবি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পীরতলা খালের থানা ব্রিজ এলাকা থেকে উত্তরের প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে উভয় তীরে চলছে বেপরোয়া দখলদারিত্ব। বাজারের পুরাতন ব্রিজ এলাকা থেকে সৃজনী বিদ্যানিকেতন হয়ে উত্তরে আরও তিন মিটারজুড়ে খালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভিটা মালিকদের দখলে চলে গেছে। বাজারের পুরাতন ব্রিজ থেকে দক্ষিণের ব্রিজ পর্যন্ত খালের উভয় তীর ভরাট করে অস্থায়ী টিনশেড ঘর তুলে নিয়মিতই দোকান বসানো হচ্ছে। অবশিষ্ট অংশে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলে খালটি রীতিমতো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
অবাধে দখল চললেও দেখার কেউ নেই। তদারকি না থাকায় দুই পারের জমি মালিকরা যে যেভাবে পারছে খালের অংশ দখল করে গড়ে তুলছে পাকাভবন, দোকানপাঠ। বাজারের ব্যবসায়ীরাও দখলে পিছিয়ে নেই।
জানতে চাইলে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কমল সাহা বলেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তি সংলগ্ন খাল ভরাটের খবর পেয়ে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বেশ কয়েক জায়গায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খাল পরিমাপ করে নকশা তৈরি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্বে থাকা রায়হান আহম্মেদ বলেন, দখলদারদের প্রাথমিকভাবে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খাল মুক্ত রাখা হবে।
