বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নৌকায় ভোট না দেওয়ায় নোয়াখালীতে যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তা প্রমাণ করে সরকার জনগণের ভোটাধিকারের শ্লীলতাহানি করেছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ভোটের পরের দিন গত সোমবার নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চার সন্তানের জননী এক নারীকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারীর দাবি, ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় সুবর্ণচর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক পরিচয় দেওয়া রুহুল আমীনের ১০ থেকে ১২ সহযোগী তাকে ধর্ষণ করে।
ওই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ভোট কারচুপির পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এখন বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একতরফা মুখ্য উপাদান হিসেবে কাজ করেছে। মিথ্যা জয়ের জন্য ভোট জালিয়াতি করতে পানির মতো টাকা খরচ করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে। বাংলাদেশে আর গণতন্ত্রের গৌরবোজ্জ্বল যুগ সৃষ্টি হলো না। শেখ হাসিনার দল মানুষের ভোটে জেতেনি, তার দল জিতেছে গায়েবি ভোটে।’
আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে নতুন গভর্নমেন্ট তৈরি হবে, তা হবে গভর্নমেন্ট অব দ্য বিজিবি, বাই দ্য র্যাব এবং ফর দ্য পুলিশ। এই মহাডাকাতি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে এরা ক্রমান্বয়ে উপহাস করছে। আওয়ামী নেতারা এখন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের চাপাবাজি ও গলাবাজির জোরে ভোট নিয়ে মহাজালিয়াতির ঘটনা আড়াল করতে চাচ্ছে। কিন্তু দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখে কিছুই এড়িয়ে যায়নি।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রিজভী বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ১৯৭৩ সালের খারাপ নির্বাচনের চেয়েও কুৎসিত। এ নির্বাচনের পর দেশ আরও এক ধাপ তমসাচ্ছন্ন বর্বর যুগে প্রবেশ করল। নির্বাচনের নামে নিষ্ঠুর রসিকতা করে এখন জনপদের পর জনপদে ধানের শীষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর চলছে পৈশাচিক বর্বরতা। নানা হয়রানিসহ শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। আক্রমণে অনেকে নিহত হয়েছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান-কৃষি খামার-সহায়সম্পদের ওপর বেপরোয়া হানা দেওয়া হচ্ছে অবিরাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে মর্মস্পর্শী শ্বাসরোধী ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীতে; এক সিএনজি অটোরিকশাচালকের স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। ভোটের দিন রাত ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে ওই গৃহবধূর হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাতভর নির্যাতন করে ঘরের পাশে ফেলে যায়।’
ভোটের পর দুই দিন বিরতি দিয়ে রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচিতে এলেন। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।
