চীনে ১৯৮৮ থেকে ২০০২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ১১ নারীকে হত্যায় দোষী সাব্যস্ত এক সিরিয়াল কিলারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। চীনা গণমাধ্যমে ‘জ্যাক দ্য রিপার’ হিসেবে পরিচিত গাও চেংইয়ং বাড়ি খুঁজে খুঁজে ডাকাতি, ধর্ষণ ও নারীদের হত্যা করত। তিনি ভুক্তভোগীদের গলা কেটে হত্যার পর শরীর ছিন্নভিন্ন করতেন।
বিবিসির খবরে জানানো হয়, চীনের গানসু প্রদেশের বাইয়িন এলাকায় নিজের মুদি দোকান থেকে দুই সন্তানের বাবা গাওকে ২০১৬ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশ কিছু ডিএনএ পরীক্ষার পর ৫৩ বছর বয়সীকে ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ।
১৯৮৮ সালে প্রথম ছেলের বাবা হন গাও। সে বছরের মে মাসে প্রথম খুনটি করেন তিনি। সে সময় বাইয়িনে ২৩ বছর বয়সী এক নারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যার শরীরে ২৬ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে একই কায়দায় হত্যা করেন গাও। যেসব তরুণী একা থাকতেন, তাদের প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু বানাতেন তিনি।
চীনা সংবাদমাধ্যম বেইজিং ইয়ুথ ডেইলির খবরে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের যৌনাঙ্গের অংশবিশেষও কাটতেন গাও। তার হাতে খুন হওয়া সবচেয়ে কম বয়সী আট বছরের এক শিশু। কয়েক দফা হামলার পর বাইয়িনের নারীরা আতঙ্কে একা ঘর থেকে বের হতেন না। তারা বাইরে বের হলে পুরুষ আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে নিতেন।
গাওয়ের এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ হয় ২০০২ সালে। এর কয়েক বছরের মধ্যে তার চাচা ছোট অপরাধে গ্রেপ্তার হন। এরপরই গাওকে ধরার উপায় খুঁজে পায় পুলিশ। চাচার কাছ থেকে নেওয়া ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তাদের বংশীয় কেউ বড় অপরাধে জড়িত। এর জের ধরে গাওয়ের সন্ধান পায় বাহিনীর সদস্যরা। গত বছর গাওকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাইয়িনের আদালত সাজা ঘোষণার সময় তার কর্মকাণ্ডকে ‘জঘন্য’ আখ্যায়িত করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার গাওয়ের সাজা কার্যকর করা হয়। বিষয়টি দেশটির মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইট ওয়েইবোর অ্যাকাউন্টে জানায় আদালত।
গাওয়ের মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চীনে বেশির ভাগ সময় দণ্ড কার্যকর করা হয় প্রাণঘাতী ইনজেকশন কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে।
