বরিশালে ঘুপচিঘরে স্কুলের পাঠদান

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:০০ পিএম

বরিশাল পৌরসভা থেকে মহানগর হয় ২০০২ সালের ২৫ জুলাই। পরের দেড় দশকে পুরোনো অনেক কিছু বদলেছে। কিন্তু বদল কিংবা উন্নয়ন হয়নি নগরের প্রাণকেন্দ্রে কালীবাড়ি পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ১৭০ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান চলছে ঘুপচিঘরে।  বরিশাল সদর রোডের কাছে বেনি সিংয়ের হাবেলিতে দেড় শতাংশ জায়গায় একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে চলছে স্কুলটির কার্যক্রম। তিন কক্ষের ঘরের একটি শৌচাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্য একটিতে প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষক বসেন। বাকিটিতে চলে পাঠদান।

স্কুলে প্রবেশের পথ নেই বললেই চলে। চারদিকে উঁচু ভবন। তার মাঝখানে ভাঙা টিনের চালে হানা দেয় রোদ ও বৃষ্টি। জায়গা না থাকায় একটি গভীর নলকূপও স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষকরা জানান, বর্ষার সময় প্রতিষ্ঠানে হাঁটুপানি থাকে। তখন ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। ভবন না থাকায় অভিভাবকরা এ স্কুলে তাদের সন্তানদের পাঠাতে চান না। এ ছাড়া চারদিকে বসতবাড়ি ও বহুতল ভবন নির্মিত হওয়ায় এখানে কোনো স্কুল থাকতে পারে, সেটিও বোঝার উপায় নেই।

১৮৪৮ সালে নগরের কালীবাড়ি রোডে প্রতিষ্ঠা করা হয় কালীবাড়ি পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরবর্তী সময়ে জমিদার বিজয় বর্মণের স্ত্রী সুখদা সুন্দরী স্কুলের জন্য দুই শতাংশ জমি বরাদ্দ দিলে কালীবাড়ি রোড থেকে এটি বেনি সিংয়ের হাবেলিতে স্থানান্তর করা হয়। তবে কোন সালে এটি এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে, তার বছর, তারিখ জানাতে পারেননি স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।  স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, প্রতিষ্ঠানের পাশে সরকারি সম্পত্তি থাকার পরও তা স্কুলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এ কারণে একদল সুযোগসন্ধানী লোক সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।  স্কুলের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন বলেন, ‘পাঁচবার গভীর নলকূপ বরাদ্দ দিলেও কেবল জায়গা সংকটের কারণে নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। সরকারি উদ্যোগের অভাবে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না।’  প্রধান শিক্ষক মেহেরুন নেছা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এই স্কুলে যোগদানের পর শুনেছি বহুবার ভবন নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। জায়গা সংকটের কারণে সে অর্থ ফেরত চলে যায়। স্কুলের জন্য খেলার মাঠ না থাকায় এলাকাবাসী এখানে তাদের সন্তানদের ভর্তি করতে চায় না। এমনকি জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্কুলের খুটির সঙ্গে বাঁশ বেঁধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘একসময় বিদ্যালয়টির সুনাম ছিল। জায়গা সমস্যার কারণে এখানে ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এলাকাবাসী সহযোগিতা করলে ভবন নির্মাণ করা সম্ভব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত