অপরিকল্পিত শিল্পায়ন গাজীপুরে দূষণ বাড়ছে

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:০২ পিএম

গাজীপুরে ক্রমবর্ধমান নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে পরিবেশদূষণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা ও আবাসন নির্মাণ করায় নানা বর্জ্য মিশে দূষিত করছে মাটি, পানি ও বায়ু। অবৈধ ইটভাটার কারণে বাতাসে কার্বনের পরিমাণ যেমন বাড়ছে তেমনিভাবে কমছে গাছের সংখ্যা। সামগ্রিকভাবে এ মহানগরে পরিবেশদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার সাদত জানান, গাজীপুরে নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে পয়োনিষ্কাশন ও শিল্প বর্জ্য অনেক বেড়ে গেছে। খাদ্যের উচ্ছিষ্ট, জীবজন্তুর মৃতদেহ, গৃহস্থালির ব্যবহার্য নানা ধরনের পচনশীল বস্তু যেখানে সেখানে ফেলায় এগুলো পচে বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর সৃষ্টি হয়। এসব বৃষ্টির পানির সঙ্গে পুকুর, নদী ও জলাশয়ে মিশে যাচ্ছে। পরে এ বর্জ্য জলাশয় থেকে নদীতে এবং নদী থেকে সাগরে যাচ্ছে। ফলে ব্যাপক মাত্রায় পানিদূষণ ঘটছে।

নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি মনির হোসেন বলেন, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শত শত কারখানা। ডায়িং, প্রিন্টিং, নিটিং সিরামিকসহ এসব কারখানার অধিকাংশের ইটিপি না থাকায় সরাসরি বর্জ্য মিশছে নদীর পানিতে।

মহানগরীর পুবাইল এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, গাজীপুরে বন কর্মকর্তাদের গোচরেই কলকারখানার মালিক ও প্রভাবশালীরা বিভিন্ন কৌশলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি গ্রাস করছে। এতে সবুজবেষ্টিত বন ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর দেশ রূপান্তরকে জানান, গাজীপুরে নদীদূষণ ঠেকাতে একাধিক কমিটি কাজ করছে। দূষণ, দখল রোধ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত