ভোটের ‘আগের রাতে ব্যালট কেটে বাক্স ভরার ভিডিওচিত্রসহ নির্বাচনে নানা অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ’ কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একইসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব আরেকটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে তাদের প্রতি অনুরোধও জানিয়েছে ফ্রন্ট। গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ জানান ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বৈঠক শেষে দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার। আর ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে দ্বিমত করেননি কূটনীতিকরা।
মাসুদ আহমেদ তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈঠকের শুরুতে ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তাকে সহযোগিতা করেন ফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। লিখিত বক্তব্যের শুরুতে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারচুপি তুলে ধরা হয়। এরপর অনিয়মের ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। এ সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের তিন প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, আফরোজা আব্বাস ও কনক চাঁপাকে দেখিয়ে ড. কামাল কূটনীতিকদের বলেন, এই তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হামলার শিকার হয়েছেন।
মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, বৈঠক কূটনীতিকরা ফ্রন্টের নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে? জবাবে ফ্রন্টের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফ্রন্টের সব প্রার্থী একযোগে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন। পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামের একটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ভর্তিসহ ব্যালট বাক্স নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিবিসি। সেটা কূটনীতিকদের দেখানো হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংবাদচিত্র দেখানো হয়। পরে এসব অনিয়মের তথ্যপ্রমাণ পেন-ড্রাইভে করে কূটনীতিকদের দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে ভোট কেটে ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নির্বাচনের দিন নানা অনিয়মের চিত্র কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেছেন তারা। সে সবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি কূটনীতিকরা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫০ বছর উদযাপন করার কথা সবাই মিলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দিয়েছে। জনগণের আকাক্সিক্ষত নির্বাচন হয়নি ৩০ ডিসেম্বর। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পুনর্নির্বাচন দাবি করেছে। ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় কূটনীতিকরা কী বলেছেন জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, ‘আমার তো মনে হয় আমরা যেটা দেখেছি, তারাও সেটা মনে করছেন।’ ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আশ্বাস পেয়েছেন কি না’ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা হলো যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন একটা ভালো নির্বাচন হোক ভালো সমাজ নির্মাণের জন্য।’ পুনরায় নির্বাচনের জন্য কূটনীতিকরা সরকারকে চাপ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, ‘আমরা তো আবেদন রাখছি একটা ভালো নির্বাচনের জন্য। এক্ষেত্রে তারা আমাদের শুভাকাক্সক্ষী হিসেবে জনগণের শুভাকাক্সক্ষী হিসেবে কারও বিপক্ষে না। তাছাড়া কূটনীতিকরা তো সরকারের শুভাকাক্সক্ষী আর সরকারও তো চায় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক।’
ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী ৭ প্রার্থীর শপথের বিষয়ে কূটনীতিকরা কিছু জানতে চেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্ট নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রাইভেটভাবে একজন অ্যাম্বাসেডর জিজ্ঞেস করেন।
বিকেল সোয়া ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, মরক্কো, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া ও স্পেনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে আরও ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, তাবিথ আউয়াল মিন্টু, মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।
