রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে রোববার রাতে এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লিতে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, সম্পা বাড়িওয়ালির ভাড়াটিয়া নিলা (২৩) নামের এক যৌনকর্মীর ঘরে রোববার সন্ধ্যায় ৫ যুবক যায়। সেখানে তারা উচ্চ শব্দে গানবাজনা করতে থাকে। এরপর অজ্ঞাত ওই যুবকরা ঘর থেকে বের হয়ে যায়। অনেক সময় ঘর থেকে নিলা বাইরে না আসায় স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে নিলার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিলার লাশ উদ্ধার করে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত নিহত নিলার ঠিকানা জানা যায়নি। তবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বাড়িওয়ালি সম্পা বাদী হয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
এদিকে গত ২০ ডিসেম্বর দিনগত রাত ১০টার দিকে শিরিন নামের এক যৌনকর্মীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা ঘরের মধ্যে চিৎকারের শব্দ শুনে শিরিনের ঘরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিরিনকে গলাকাটা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় লিখন নামে এক যুবক আগত একজনকে গলায় ছুরি ধরে সবাইকে হুমকি দিতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লিখনের হাত থেকে ছুরি উদ্ধার করে তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লিখনকে গ্রেপ্তার করে।
এ সকল ঘটনায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লির বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পল্লির অনেক বাসিন্দাই বলেন, সমাজের সব হারিয়ে আমাদের ঠিকানা হয়েছে অন্ধকার গলিতে। এখানকার বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার বা রহস্য উদঘাটন হয় না। তবে গলা কেটে হত্যার প্রবণতা আগে দেখা যায়নি। কিন্তু নতুন এসব ঘটনায় পল্লির প্রতিটি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
