রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য গোপন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্তত একটি বৈঠকে তিনি নিজ দোভাষীর কাছ থেকে আলোচনার সারসংক্ষেপ নিয়ে নেন। একই সঙ্গে বৈঠকে আলোচ্য বিষয় নিয়ে প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা না করতেও দোভাষীকে নির্দেশ দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কিছু কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তারা জানান, জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হামবুর্গে ২০১৭ সালে পুতিনের সঙ্গে একটি বৈঠক শেষে সারসংক্ষেপ নিজের দখলে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।
বৈঠকের পর প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের কাছে নথি সরবরাহ করেছিলেন টিলারসন। এরপরও প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউসের এক উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দোভাষীর কাছে আরও তথ্য জানতে চান। এর জের ধরেই মার্কিন বর্তমান-সাবেক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের লুকোচুরির বিষয়ে জানতে পারেন।
ট্রাম্পের এই নথি আটকে রাখা পুতিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ গোপন রাখার বৃহত্তর নমুনার একটি অংশ। এর মধ্য দিয়ে বোঝা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলাপনের বিষয়ে জনগণের গভীর পর্যবেক্ষণের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি নিজ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে পুরোপুরি জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের এমন আচরণের কারণে তার সঙ্গে পুতিনের মুখোমুখি আলাপের বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের কাছে বিস্তারিত কোনো নথি নেই। গত দুই বছরে পাঁচটি জায়গায় পুতিনের সঙ্গে তার আলাপের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু সরকারি গোপন নথিতেও নেই।
এ ধরনের ফাঁকফোকর যেকোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক। একে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের নজিরবিহীন চেষ্টা হিসেবে দেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ তদন্তের বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট এস মুলার তার কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তার নেতৃত্বাধীন এ তদন্তে মূলত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্পও তার সহযোগীরা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো চক্রান্তে জড়িত ছিলেন কি না, তা দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই ট্রাম্পের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন তথ্য ফাঁসে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে খুব কম তথ্যই জানা গেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের অনলাইনে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ফক্স নিউজের উপস্থাপক জেনিন পিরোর মুখোমুখি হন ট্রাম্প। এতে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের তথ্য গোপন রাখতে তিনি বিশেষ কোনো কৌশলের আশ্রয় নেননি। ওই সময় তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট ও সংবাদমাধ্যমটির মালিক জেফরি পি. বেজোসকে একহাত নেন।
ট্রাম্প বলেন, পুতিনের সঙ্গে ইসরায়েল ও অন্য কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। এ বৈঠকের বিষয়ে যে কেউ জানতে পারত। এটি যে কারও জন্য উন্মুক্ত।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে পিরো জিজ্ঞাসা করেন, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে কিংবা দেশটির হয়ে কাজ করেছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করছি, আমাকে এ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করা সবচেয়ে অপমানজনক বিষয় এটি।’
×
