নারায়ণগঞ্জে নিহত যুবককে আসামি করল পুলিশ

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০৭:১৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হওয়া এক যুবককে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার বন্দর থানার এস আই মোহাম্মদ আলী ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে আশিকুর রহমান (২৫) নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত হন। পরদিন পুলিশের করা মামলায় তাকে ২১ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত আশিকুর রহমান মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।

আশিকুরের প্রতিবেশী মো. হাসমত আলী জানান, চানপুর এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে বাসা বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আশিকুর। তিনি স্থানীয় প্যানডেক্স গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। আশিকুরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

নিহত আশিকুর রহমানের স্ত্রী বানেছা বেগম বলেন, বিকেলে গার্মেন্টস থেকে বাসায় ফিরে বাজার করতে মদনপুর বাজারে যান আমার স্বামী। রাত ৯টার পর স্থানীয়রা এসে জানায় পুলিশের গুলিতে আমার স্বামী মারা গেছে। পরে রাতে এলাকার লোকজন বাসায় লাশ নিয়ে আসে। পুলিশ কি কারণে মামলায় আমার মৃত স্বামীর নাম দিয়েছে আমি তা জানি না।

নারায়ণগঞ্জ একশ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান জানান, ময়নাতদন্ত অনুযায়ী আশিকের মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। আশিকুর রহমানের শরীরের কয়েকটি স্থানে গভীর ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাম ঊরুতে গভীর ক্ষত চিহ্ন ছিল। এছাড়াও ডানদিকের ঊরুতেও একটি ক্ষত চিহ্ন দেখা গেছে। ক্ষত চিহ্ন থাকলেও সেখানে কোন বুলেট পাওয়া যায়নি বলে জানান চিকিৎসক। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পরই আশিকের মৃত্যু হয়েছে।

সংঘর্ষে নিহত যুবককে কেন এ মামলার আসামি করা হলো এ ব্যাপারে জানতে বন্দর থানার ওসি(তদন্ত) হারুনুর রশিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জানা গেছে, বন্দর উপজেলার মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের আমির হোসেন ও খলিলুর রহমান খলিল মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে গত ১৮ নভেম্বর দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

শনিবার রাতে মদনপুর এলাকার ড্রিমল্যান্ড নামের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে নূর নবী ও রিফাত নামের দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। তারা দুজনই খলিল মেম্বারের অনুসারী।

এ দুজনকে আটকের খবর পেয়ে খলিল মেম্বারের লোকজন এসে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে। তারা আটক দুজনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

এসময় আমির হোসেনের লোকজন পুলিশের পক্ষ নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মদনপুর এলাকার প্রভাবশালী ইউপি মেম্বার খলিলুর রহমান ও তার পক্ষের লোকজনও পুলিশকে ধাওয়া করলে পুলিশ পাল্টা অ্যাকশনে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত