সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যদের প্রত্যাহারের পর কুর্দি বাহিনীগুলোর ওপর হামলা হলে তুরস্ককে ‘অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কুর্দিরাও তুরস্ককে কোনোভাবে উসকে দিক সেটাও চান না বলে দুটি টুইট বার্তায় জানিয়েছেন তিনি। তার এই ঘোষণার পর তুরস্কের মুদ্রা লিরার পতনের পাশাপাশি আঙ্কারায় বিস্তর সমালোচনা চলছে বলে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে কুর্দি মিলিশিয়াদের সঙ্গে লড়াই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট সিরিয়ার ‘গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর’ জোট এসডিএফের বৃহত্তম শরিক পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) নামে এই কুর্দি মিলিশিয়াদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে তুরস্ক।
কুর্দিদের যুক্তরাষ্ট্রের মদদ দেওয়ার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিপেজ তায়িপ এরদোয়ান এটিকে নির্মূল করার শপথ করেছেন। সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার শুরুর পর কুর্দিদের ওপর তুরস্ক হামলা চালাতে পারে এমন সম্ভাবনা সামনে রেখে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিলেন।
ওয়াইপিজির ওপর তুরস্ক হামলা চালালে প্রতিক্রিয়ায় দেশটির অর্থনীতি কীভাবে বিপর্যয়ের শিকার হতে পারে টুইটে তা পরিষ্কার করেননি ট্রাম্প; শুধু ‘২০ মাইলজুড়ে একটি নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে রাশিয়া, ইরান ও সিরিয়া সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগ করেছে মন্তব্য করে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের বাড়ি ফেরানোর এটাই সময় বলে লিখেছেন তিনি।
ওয়াইপিজির নেতৃত্বাধীন এসডিএফ জোটের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় মোতায়েন আছে মার্কিন সৈন্যরা। গত মাসে ট্রাম্প সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীগুলোকে অবিলম্বে প্রত্যাহার শুরুর নির্দেশ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিত্ররা ক্ষুব্ধ হয়। দেশের ভেতরেও ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা হয়।
রবিবার টুইটে মন্তব্যের পর সৌদি রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য প্রিন্স তুর্কি আল ফয়সাল বিবিসিকে বলেছেন, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ‘নেতিবাচক ফলাফল’ হতে পারে যার সুবিধা নেবে ইরান, রাশিয়া ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ১ দশমিক ৬ শতাংশ দর হারিয়ে এক ডলার সমান ৫ দশমিক ৫৪৫০ লিরা বিনিময় হচ্ছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, অবশিষ্ট আইএস যোদ্ধাদের ওপর ‘নিকটবর্তী ঘাঁটি’ থেকে আক্রমণ চালানো যাবে। এ বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্রদের আশ্বস্ত করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন। তিনি এখন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আছেন।
