রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের অবস্থানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের যে কর্মকান্ডে সেটা মোটেই সন্তোষজনক নয়। তাদেরকে এ বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখতে চায় বাংলাদেশ। আমি বিশ্ব সম্প্রদায়ের আরও সম্পৃক্ততা আশা করছি।’ চীন-রাশিয়ার অবস্থান প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারাও আমাদের সঙ্গে রয়েছে। রাজনীতিতে ভিন্নভাবে বিভিন্ন সময় পরিবর্তন আসে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী বলে কিছু নেই।’
গতকাল সোমবার বিকেলে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ড. আবদুল মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন দেশ অভিনন্দন ও আমন্ত্রণ জানালেও বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ ভারত দিয়েই প্রথম বিদেশ সফর শুরু করতে চান নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি সহজে সমাধান হবে না। এর জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান নিয়ে আমি একটি স্টাডি করতে বলেছি। এই গবেষণা থেকে রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের দেশের সামাজিক, আর্থিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী কী প্রভাব পড়েছে তা জানার চেষ্টা করা হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু জিইয়ে থাকলে ভারত-চীনসহ সবার স্বার্থ ব্যাহত হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথমেই অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দেবেন জানিয়ে বলেন, বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে এবার অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মকা-ে জোর দেওয়া হবে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নেও নতুন মাত্রা যোগ করতে চাই। বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছেন তা বাস্তবায়নে সামনের দিনে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ভিশন টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আমি সবার কাছে সহযোগিতা চাই। ২০২১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালন করব। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে যা যা প্রয়োজন উদ্যোগ নেব। মহাজোট সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে এবং জীবন সহজ করতে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দেব।’
