ঝালকাঠিতে বিএনপির কার্যালয় বন্ধ করে রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড ঝোলানোর খবর নিয়ে রোববার আলোচনা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে এ জন্য দায়ী কাছে খোদ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাই।
প্রায় এক যুগ ধরে ব্যবহার হয়ে আসা জেলা বিএনপির কার্যালয়টি বন্ধ হওয়ার পেছনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সহসভাপতির মনোনয়ন না পাওয়াকে দায়ী করছেন সেখানকার নেতাকর্মীরা।
এ আসন থেকে বিএনপি তাদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জীবা আমিনা খানকে মনোনয়ন দেয়। এ আসনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ।
বিএনপির ওই কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক ফরিদ হোসেন জানান, শুক্রবার জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনের মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মিঞা আহমেদ কিবরিয়া ফোন করে অফিসের চাবি মালিক পক্ষের লোকজনের কাছে দিতে বলেন।
তিনি বলেন, আমি সভাপতি ও সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে মালিকপক্ষ অফিসের তালা ভাঙার চেষ্টা করে। পরে চাবি দিলে তারা অফিসের মালামাল বাইরে বের করে অফিস তালা মেরে দেয়। বিএনপির কার্যালয় ভবনটি কিবরিয়ার নামে চুক্তি করা ছিল। এবং এই ভবনের মালিক কিবরিয়ার বড় ভাইয়ের শ্বশুর।
এ মুহূর্তে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো কার্যালয় না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা।
নেতাকর্মীরা জানান, এই জেলা কার্যালয়টি মূলত ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়ার উদ্যোগে কয়েক বছর আগে তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হয়েছিল। এত দিন কিবরিয়াই এই ভবনের ভাড়া পরিশোধ করেছেন। তিনি এবার মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অফিস ছেড়ে দিয়ে থাকতে পারেন।
জেলা বিএনপি সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু বলেন, আমার কাছে কিবরিয়া সাহেব ফোন করে বলেছেন, আমি অফিস ছেড়ে দিয়েছি, মালিকপক্ষকে ভবন বুঝিয়ে দিতে হবে।
তিনি জানান, এ সময় আমি কিবরিয়াকে বলি, আমাদের সাধারণ সম্পাদক যেহেতু জেলে রয়েছে, সে বের হওয়ার পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হবে। কিন্তু এরপরও শুনি অফিসের মালামাল বের করে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে মিঞা আহমেদ কিবরিয়া বলেন, আমার আত্মীয়র কাছ থেকে এই অফিসটি আমি ভাড়া নিয়েছিলাম। মালিকপক্ষের পারিবারিক সমস্যার কারণে ছেড়ে দিতে হয়েছে। এখন আমরা নতুন অফিস খুঁজছি এবং অফিসের মালামাল আমার হেফাজতে রয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ে অবস্থিত জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে মালিকপক্ষ রবিবার দুপুরে ওই অফিসের সামনে আরাফাত হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিলে বিষয়টি সংবাদকর্মীদের নজরে আসে।
