লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষকরা। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া শিক্ষক কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি তারা। শিক্ষকদের দাবি, লাঞ্ছনাকারী ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও নবীনদের র্যাগিংয়ের নামে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি চলবে।
এর আগে গত রবিবার বিকেলে অভিযুক্তদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয় শিক্ষক সমিতি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পবিপ্রবির শেরেবাংলা হলের গণরুমে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের নামে অমানুষিক নির্যাতনের খবর পেয়ে কয়েকজন শিক্ষক এর প্রতিবাদ ও র্যাগিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে ওই শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও তেড়ে এসে তাদের লাঞ্ছিত করে র্যাগিংকারীরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।
শেরেবাংলা হলের সহকারী প্রভোস্ট আবদুর রহিম ও সুজন কান্তি মালী দেশ রূপান্তরকে জানান, হলের গণরুমে র্যাগিং নির্যাতনের খবর পেয়ে কয়েকজন শিক্ষক সেখানে গিয়ে তাদের নিষেধ করে। কিন্তু কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। ওই সময় র্যাগারদের পক্ষ নিয়ে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের সভাপতি মোশায়েদুল ইসলাম সাদী শিক্ষকদের দিকে তেড়ে যান।
ছাত্রলীগের সভাপতি মোশায়েদুল ইসলাম সাদী বলেন, ‘ওই দিন নবীন শিক্ষার্থীদের সামনে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের কান ধরে উঠবোস করানো হয়। আমি এর প্রতিবাদ করলে হলের একজন সহকারী প্রভোস্ট আমার পরিচয় জানতে চান। এ সময় তিনি নিজেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের বড় ক্যাডার দাবি করলে আমি তাকে ক্যাডার পরিচয়ে হলে আসতে নিষেধ করি।’
