ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালের সড়কে ভিক্ষা করছেন শুক্কুর আলী (৪৫)। দেহজুড়ে শত শত টিউমার। ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করলে যন্ত্রণায় কাতরাতে হয় সারা রাত। অসুস্থ ও দুর্বল শুক্কুর আলীকে কেউ কাজ দেয় না। পান না প্রতিবন্ধীভাতাও। তাই কর্মহীন, বেকার ও ভবঘুরে অসুস্থ শরীরের জীবনকে বাঁচাতে ভিক্ষার থলে নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা শুক্কুরকে।
আজ এখানে, কাল ওখানে এমন করে এ পর্যন্ত দেশের সমতলে ৪০টি জেলায় ভিক্ষাবৃত্তি করেছেন তিনি। এই ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গী স্ত্রী তাহেরা। দু/চার শ টাকা যা পান তা দিয়ে চলে সংসার। রাত কাটাতে হয় বাস বা রেললাইনে। মানুষের করুণা ছাড়া বাঁচতে পারেন না তারা।
গত মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপালে ভিক্ষা করার সময় কথা হয় শুক্কুর আলীর সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, এক ছেলে এক মেয়েসহ পরিবারের ৪ সদস্যের ভরণপোষণ তাকেই করতে হয়। আজ এখানে কাল ওখানে করে প্রায় ৪০টি জেলাতে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করেছেন। তার সঙ্গে দেখা গেছে কাপড়ের একটি থলে। তাতে একটি মশারি আর কিছু কাপড়-চোপড়।
ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষাবৃত্তির জীবন কাহিনী এখানেই শেষ নয়। দুঃখ-দুর্দশা যেন তার পিছু ছাড়ছে না। পায়খানা-প্রসাবের রাস্তায়ও রয়েছে টিউমার। পথেঘাটে দুর্ভোগের অন্ত নেই। তারপরও জীবন থেমে নেই। শরীরের ভেতরের প্রাণ পাখি যতক্ষণ আছে ততক্ষণ বেঁচে থাকার যুদ্ধে ভিক্ষা করবেন শুক্কুর আলী।
