অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব ঝুলছে

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪৬ এএম

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী ও কিশোরগঞ্জের ইটনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জলাভূমি নিয়ে গঠিত জলমহাল ইজারা বাবদ গত দুই বছরের প্রায় ৪৭ লাখ টাকার রাজস্ব পরিশোধ না করায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইজাদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা উপক্ষো করে ইজারাদার কিশোরগঞ্জের ইটনার রমানাথপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে।

নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, জলমহালটি ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ছয় বছরের জন্য নারায়ণ চন্দ্র দাসকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। কয়েকবার চিঠি দেওয়ার পরও পঞ্চম বছরের ইজারা বাবদ অর্থ পরিশোধ না করায় তার ওপর মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জলমহাল সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়ছে এবং তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয়েছে। শেষ দুই বছর মিলে ইজারা বাবদ ৪৬ লাখ ৭৭ হাজার ১৫৮ টাকা আদায় ঝুলে আছে।

‘এরপরও চুরি করে মাছ শিকারের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তার বিরুদ্ধে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এরই মধ্যে মাছ চুরির মামলাও হয়েছে, মোবাইল কোর্ট অভিযান হয়েছে এবং পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আন্তঃজেলা জলমহালটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রথম চার বছরের বার্ষিক ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৩ টাকা ও পরবর্তী দুই বছর তার ওপর ২৫ শতাংশ বর্ধিত ইজারামূল্যে নারায়ণ চন্দ্র দাসকে ইজারা দেয় সরকার। ইজারাদার শেষ দুই বছরের ইজারার মূল্য পরিশোধ না করায় ৪৬ লাখ ৭৭ হাজার ১৫৮ টাকা বকেয়া হয়েছে। ওই রাজস্ব পরিশোধ না করে তিনি অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মাছ ধরে বিক্রি করছেন। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের নয়ানগর গ্রামের মৃত সুধীর চন্দ্র দাসের ছেলে সুদীপ্ত কুমার দাস এ কাজে তাকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার সরেজমিনে জলমহাল ঘুরে খালিয়াজুরীর শ্যামপুর এলাকায় কয়েকজনকে একটি অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘরের ভেতরে পাওয়া যায়। পাশের জলাশয়টির একটি অংশ জাল দিয়ে ঘেরাও দেওয়া দেখা যায়। সেখানে দলটির সর্দার পরিচয়দাতা বিরেশ্বর দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জলমহালটি রমানাথপুরের নারায়ণের সমিতির নামে নিয়েছে ও সুদীপ্ত দাস দেখাশোনা করতাছে, তার হইয়া মাছ ধরতাছি।’ ইজারার কাগজ দেখতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এহানে নত্তুন আইছি, এইডা সুদীপ্ত বাবু বলতে পাইরব, এটা আমি বলতে পাইরব না।’

রমানাথপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র দাসের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সুদীপ্ত কুমার দাস ফোনে নিজেকে সমিতির উপদেষ্টা দাবি করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার আমার কাছে প্রাপ্য নন। এই জন্য আমি টাকা জমা দেইনি। আমি উল্টো সরকারের নিকট টাকা পাব। আমাকে যে টাকা রাজস্ব ধার্য করার কথা ছিল তার চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে। এ ব্যাপারে হাইকোর্টে মামলা আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত