মস্কোতে ট্রাম্প টাওয়ার নির্মাণে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কংগ্রেসের কাছে আইনজীবী মাইকেল কোহেনকে মিথ্যে কথা বলতে বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাজফিড নিউজে এ-বিষয়ক একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় ট্রাম্প তার পক্ষে কোহেনকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে বলেছিলেন। এ সময় ট্রাম্প কোহেনকে উদ্দেশ্য করে ‘মেইক ইট হ্যাপেন’ বাক্য বলেছিলেন বলেও জানায় মিডিয়াটি।
বাজফিড ট্রাম্পের রুশ সংযোগ নিয়ে তদন্তাধীন দুই কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে। ওই দুই কর্মকর্তা জানান, বিশেষ কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলার এরই মধ্যেই এ ব্যাপারে অবহিত আছেন। যদিও মুয়েলারের দল এ তথ্য ট্রাম্পের সংস্থার অভ্যন্তরীণ ইমেইল, খুদেবার্তা এবং অন্য নথি ঘেঁটে জানতে পারে। মুয়েলারের দলের কাছে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কোহেন এসব বিষয় ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইউএসএ টুডেতে কোহেনের আইনজীবী ল্যানি ডেভিস বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো প্রশ্ন তার মক্কেল এড়িয়ে যাবেন। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির সদস্য জোয়াকুইন কাস্ত্রো বলেন, ‘ঘটনা সত্যি হলে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পদত্যাগ অথবা অভিশংসনের শিকার হতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের সামনে মিথ্যে কথা বলাকে আইন ভঙ্গের সমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মাঝেই ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে ওই চুক্তি করেন। মস্কোতে ট্রাম্প টাওয়ার নির্মাণে এক দশক ধরে চেষ্টা করছিলেন তৎকালীন ব্যবসায়ী ট্রাম্প। যদিও নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে তার কোনো বাণিজ্য নেই।
কংগ্রেসের সামনে মিথ্যে বলায় গত নভেম্বরে কোহেনকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি মুয়েলারের দলের সামনে স্বীকার করেন, মস্কোর সঙ্গে ট্রাম্প টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে ছয় মাস ধরে আলোচনা চলে ট্রাম্পের। অবশ্য কংগ্রেসের সামনে তিনি তা স্বীকার করেননি। একই সময় তিনি আরও বলেন, চুক্তি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছাড়াও ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গেও তার কথা হয়েছিল। কোহেনের এমন স্বীকারোক্তির পর ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, তার সাবেক মধ্যস্থতাকারী তাকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন চুক্তি সম্পর্কে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা এ বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে পারি। ওটা ছিল সম্পূর্ণ খোলাখুলি একটি চুক্তি। সবাই এ সম্পর্কে জানেন। আমি এটা লুকাতে চেষ্টা করিনি।’
বিশেষ কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের দল এখনো ট্রাম্পের রুশ সংযোগ নিয়ে তদন্ত করছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে মস্কো কোনোভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল কি না, তা-ই এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে ট্রাম্পকে পদত্যাগ করতে হতে পারে।
