নগরীর পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য তৈরি ফুটপাত চলাচলের উপযোগী রাখার দায়িত্ব যে সংস্থার, সেই সিটি করপোরেশনই ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। রাজধানীর আজিমপুরে সরকারি অফিসার্স কলোনি এলাকায় ফুটপাত দখল করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৬ নং ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যালয় বসানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আজিমপুর মেটার্নিটি মোড় থেকে ছাপড়া মসজিদ পর্যন্ত রাস্তাটির দুই পাশের ফুটপাতের অধিকাংশই পথচারী চলাচলের জন্য অনুপযোগী। একপাশে শুধু সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পাকা অফিস ঘর তৈরিই নয়, ফুটপাতের ওপর ময়লার গাড়ি রেখেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া আছে গাছের গুঁড়ি, আবর্জনা আর চায়ের দোকান। অন্যপাশ হকারদের দখলে; ফুটপাত দখল করে মাছ বিক্রি ও কাটার কাজ চলছে; কাঁচা তরকারিও বিক্রি করছেন অনেকে। ফলে পথচারীদের রাস্তার মধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরকারি অফিসার্স কলোনির একটি গেইটের পাশে ফুটপাতের ওপর প্রায় দেড় বছর আগে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যালয়টি তৈরি করা হয় জানিয়ে ফুটপাতের একজন তরকারি বিক্রেতা বলেন, প্রতিদিন সকালে ময়লা আনা-নেওয়ার কাজে জড়িত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এই অফিসে একত্রিত হন। পরে যে যার এলাকায় চলে যান।
শফিকুর রহমান নামে একজন পথচারী বলেন, ‘আমার বাসা এখানেই। প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। ফুটপাতের যেই অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরেই এমনটা দেখতেছি। রাস্তার ভেতর দিয়েই চলতে হয়। রিস্ক তো থাকেই। তবে যাদের সাথে বাচ্চা থাকে, তাদের সমস্যা হয় বেশি।’
এ বিষয়ে ডিএসসিসির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি হলো আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাজিরা ঘর। ফুটপাত ছাড়া আর কোথায় করব বলেন? এ ছাড়া উপায় নাই। ৮৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করে রাতের বেলায়। তাদের বসার কোনো জায়গ নেই। আর ওই রাস্তাটায় অত যানজট নেই। তাই আমরা ছোট করে একটা রুম করছি। বাকি ফুটপাত তো খালিই আছে।’
কবে নাগাদ অফিসটি ফুটপাত থেকে সরবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা অন্য কোথাও কখনো জায়গা পাই, তাহলে সরিয়ে নেব। পুলিশের জন্য আমরা ফুটপাতের ওপর ক্যাম্প করে দিয়েছি, যাতে বসে কাজ করতে পারে। জনগণের সুবিধার জন্য এরকম কিছু কাজ করতে হয়। অন্য কোনো কারণে এগুলো করা হয়নি।’
বর্জ্য অপসারণ অফিসের দেয়ালঘেঁষে ফুটপাতের ওপর একটি ছোট্ট চায়ের দোকান। দোকানের ভাড়া দিতে হয় কি না জিজ্ঞেস করলে চা বিক্রেতা বলেন, ‘টাকা তো ভাই দিতেই হয়। কিন্তু কারে দিতে হয় সেটা তো বলা যাবে না।’
