যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম সপ্তাহ ধরে ধরা অচলাবস্থা বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটরা মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে বাজেট বরাদ্দ দিলে বিনিময়ে ট্রাম্প সাত লাখ তরুণ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে (ড্রিমার) যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী নিরাপত্তা সুবিধা (টিপিএস) দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। গত শনিবার হোয়াইট হাউসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প সমঝোতার সুরে কথা বলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ভাষণে ট্রাম্প শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী গ্রহণের গর্বিত ইতিহাস নিয়ে কথা বলেন। ডেমোক্র্যাটরা দেয়াল নির্মাণে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিলে যুক্তরাষ্ট্র এই গর্ব ধরে রাখতে পারবে এমনটা বলেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এমন প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, সিনেটর চাক শুমারসহ অন্যরা। তাদের বক্তব্য, ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে ড্রিমারদের জন্য নেই কোনো স্থায়ী সমাধান। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, ‘আমার মনে হয় এসব ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিথ্যে আশার সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটা কিছু আমেরিকানকে বোকা বানাবে। কারণ তারা ড্রিমারদের ব্যাপারে অতটা জানেন না।’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সাত লক্ষাধিক ড্রিমার নাগরিকত্ব ছাড়াই বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ড্রিমারদের জন্য কিছু সুবিধা রাখা হলেও ট্রাম্প শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন। ট্রাম্প গত শনিবারের প্রস্তাবে বাজেট বরাদ্দের বিনিময়ে আরও তিন বছরের জন্য ড্রিমারদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। দেশটিতে অচলাবস্থা শুরুর পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ট্রাম্প ড্রিমারদের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিবাসীদের সামনে রেখে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাইছেন।
এছাড়াও তিনি মানবিক সহায়তা খাতে ৮০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ, ২ হাজার ৭৫০ জন সীমান্ত এজেন্ট ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা, অভিবাসন সংক্রান্ত ৭৫ জন নতুন বিচারক নিয়োগেরও প্রস্তাব দিয়েছেন। দুপক্ষের বিশ্বাস এবং সমঝোতার ভিত্তিতেই দেশের সমস্যা সমাধানের কথাও বলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প যে প্রস্তাব দিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই এসব দাবি করে আসছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক জরিপে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এই অচলাবস্থার জন্য প্রেসিডেন্টকেই দায়ী করছেন। শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির নারীরা রাস্তায় নেমে আসেন অচলাবস্থার বিরুদ্ধে সেøাগান দিয়ে। ২০১৬ সালে ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার পর দেশটিতে নারীরা প্রথম রাস্তায় নেমে আসে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, প্রেসিডেন্টের জামাতা এবং সিনিয়র উপদেষ্টা জেরার্ড কুশনার সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে অচলাবস্থা বন্ধে পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। এ সময় তাদের সঙ্গে মিচ ম্যাককনেলের মতো সিনেটরের সঙ্গেও আলোচনা হয়। যদিও এই আলোচনা কতদূর এগিয়েছে তা জানা যায়নি।
