গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফেলিক্স শিশেকদিকে বৈধতা দিল সাংবিধানিক আদালত। ফল প্রকাশে কোনো কারচুপি হয়নি মর্মে গতকাল রোববার এ রায় দেওয়া হয়। তবে রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন শিশেকদির বিরোধী মার্টিন ফায়ুলু। তিনি নিজেকে ডিআরসির ‘একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট’ দাবি করায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকট আরও ঘনীভূত হলো।
আল জাজিরার খবরে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকেই ফায়ুলুর সমর্থকরা অভিযোগ করে আসছিলেন, ভোটে কারচুপি করতে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলার পছন্দের প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করেছেন বিরোধী প্রার্থী শিশেকদি। তবে দুই পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে শুনানিতে আদালত বলে, নির্বাচন কমিশনের ফাঁস হওয়া নথির বরাত দিয়ে ফায়ুলু সহজে জিতেছেন বলে যে দাবি করছেন, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি। আদালতের এ রায়ের পরই কঙ্গোর জনগণকে রাস্তায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানান ফায়ুলু। ফল নিয়ে ‘সাংবিধানিক ক্যু’ হয়েছে দাবি করে ফায়ুলু বলেন, ভুয়া ফলের বৈধতা দিয়েছে আদালত। তিনি আরও বলেন, ‘এটা গোপন কোনো বিষয় নয়... আপনারা আমাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন।’ শিশেকদির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলেন, ‘আমি নিজেকে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট মনে করছি। এ ভূমিকায় যিনি অবৈধভাবে এসেছেন, তাকে স্বীকৃতি না দিতে এবং তার পক্ষ থেকে আসা কোনো আদেশ মান্য না করতে আমি কঙ্গোর জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই।’ তিনি আরও বলেন, শিশেকদিকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। এদিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বৈধতা পাওয়ার পর শিশেকদি আদালতের রায়কে পুরো জাতির জয় হিসেবে অভিহিত করেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কঙ্গো জিতেছে।’
