পাইপলাইনে গ্যাস থাকলেও গৃহস্থালি ও শিল্পে এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাজশাহীর মানুষ। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় তিন বছর ধরে নতুন সংযোগ দেওয়া বন্ধ। আগের স্বল্প সংখ্যক সংযোগে গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় বিপাকে পড়েছে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল)। প্রতি বছর তাদেরকে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে বাসাবাড়িতে মাত্র ৯ হাজার ১৫৭টি এবং ১১টি শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ আছে।
জানতে চাইলে পিজিসিএল রাজশাহী আঞ্চলিক অফিসের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী অনুপ কুমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের গ্যাসের কোনো সংকট নেই। দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও মাত্র ৩ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ঘন ফুট খরচ হয়।’ গ্যাস সংযোগ বন্ধের বিষয়ে পিজিসিএল আঞ্চলিক অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ এফ এম আজাদ কামাল জানান, সরকারি নির্দেশনা না থাকায় ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে রাজশাহীসহ সারা দেশেই গৃহস্থালি, শিল্প, বাণিজ্যসহ সব ধরনের গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ আছে। চাহিদাপত্রের টাকা দিয়েও অনেকে সংযোগ পাননি। পুনরায় নির্দেশনা পেলে আবার সংযোগ দেওয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে নেওয়া এডিবির ১০৮ কোটি টাকা ঋণের সুদাসল পরিশোধ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতায় প্রতিবছর খরচ হচ্ছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। সেখানে আয় মাত্র দুই কোটি টাকা। সেই হিসেবে কোম্পানির বছরে ৯ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।
কয়েক দফা আন্দোলনের পর গ্যাস এলেও এর সুবিধা না পাওয়ায় হতাশ এ অঞ্চলের মানুষ। রাজশাহীতে গ্যাসের দাবিতে ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় আন্দোলন। পাইপলাইনের গ্যাস চেয়ে হরতালও পালিত হয়। এরপর ২০০৬ সালের ১২ জুলাই রাজশাহী মহানগরীতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেকে) অনুমোদিত হয়। একই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এর পরও কার্যক্রমে গতি না থাকায় আবারও আন্দোলনে নামে মানুষ। পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির মাধ্যমে ২০০৯ সালে কাজ শুরুর পর ২০১৩ সালে রাজশাহীতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া শুরু হয়। এদিকে নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় পিজিসিএল দপ্তরে পড়ে আছে হাজার হাজার আবেদনপত্র। কোম্পানির তথ্যমতে, রাজশাহী নগরীতে ২৭২ কিলোমিটার গ্যাসলাইন আছে। বর্তমানে ক্যাপ্টিভ পাওয়ার সংযোগ আছে ২টি, প্রক্রিয়াধীন আরও ২০টি। সিএনজি শ্রেণিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে ১টি, প্রক্রিয়াধীন ১৩টি। শিল্প-কারখানায় সংযোগ আছে ১১টি, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ২৪টি। গৃহস্থালি গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ১৫৭টি, অনুমোদন চেয়ে আবেদন ঝুলে আছে ১২ হাজার ৮০৫টি। সংযোগ দেওয়া বন্ধ থাকায় নতুন করে কেউ আবেদন করেন না। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিদের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল গ্যাস সংযোগ চালু। গ্যাস না পেলে আবারও রাজশাহীর মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করে দাবি পূরণ করবে।’ রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা শিল্প কলকারখানায় গ্যাস সংযোগের জন্য আগে থেকেই আন্দোলন করেছি, এখনো করছি। স্বল্প পরিসরে হলেও কলকারখানায় গ্যাস দেওয়া শুরু হয়েছে। আমাদের দাবি, বেশি করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া। কোম্পানিকে লোকসান থেকে বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।’
