নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় কারাগারে থাকা বিএনপি নেতার স্ত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ ঘটনার মোড় ঘোরাতে পুলিশ ওই নারীর স্বজনদের গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী এ অভিযোগ করেন।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল রবিবার বাম জোট ধানসিঁড়িতে মানববন্ধন করেছে। জেলা মহিলা কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সাহিদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া মমিন এক বিবৃতিতে জড়িতদের ছাড় না দিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হাসপাতালে ওই নারী জানান, শুক্রবার গভীর রাতে ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন জহিরসহ সাতজন সিঁদ কেটে তার ঘরে প্রবেশ করে। ওই সময় অস্ত্রের মুখে তার মা জোসনে আরা বেগম, ছেলে ও দুই মেয়েকে জিম্মি করে জাকির হোসেনসহ তিনজন তাকে ধর্ষণ করে। অন্য চারজন ঘরে লুটপাট চালায়। এ বিষয়ে পরের দিন থানায় গিয়ে বারবার সাতজনের কথা বললেও পুলিশ থানায় টাইপ করা একটি এজাহারে চারজনকে আসামি করে তার (নারী) স্বাক্ষর নিয়ে মামলা করে।
তিন সন্তানের জননী জানান, পুলিশ গত শনিবার মূল আসামি জাকির হোসেনের পর অন্যদের গ্রেপ্তার করেনি। কিন্তু তার দেবর আবদুর রব হোসেন মান্নান, ননদের জামাই সেলিম ও তার মামা হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে।
কথা বলার সময় শরীরের ব্যথায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই নারী জানান, মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তার নির্দোষ আত্মীয়দের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় তিনি এ তিনজনের মুক্তি দাবি করেন।
নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান জনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন তাদের নাম বলায় এ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খলিলুর রহমান জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসক আকেফা জাহান ও কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স আলামত সংগ্রহ করে প্যাথলজিক্যাল টেস্টের জন্য নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ পাঠিয়েছেন। দুই-একদিনের মধ্যে এ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী চিকিৎসক জানান, ‘ভিকটিমের শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার ভেজাইনাল ইনজুরি রয়েছে। মেডিকেল কলেজ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ সুপার বরাবর রিপোর্ট পাঠানো হবে।’
