আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় সেনাবাহিনীর ১২৬ সদস্য নিহত হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের ময়দান ওয়ারদাক প্রদেশের সামরিক ঘাঁটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানায় আলজাজিরা।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানায়, হামলাকারীরা শুরুতে ঘাঁটিতে গাড়িবোমা হামলা চালায়। এরপর তালেবান যোদ্ধারা ঘাটিতে প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে সেনাসদস্যদের হত্যা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। প্রথমে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল বোমা হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছে। হামলাকারী তালেবান যোদ্ধাদের সবাই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, ঘটনার পরপরই দেশটির ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান হামলার দায় স্বীকার করেছে। একদিন আগেই লোগার প্রদেশের গভর্নরের গাড়িবহরে তালেবান যোদ্ধারা আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। ওই হামলায় গভর্নরের সাতজন দেহরক্ষী নিহত হয়।
ময়দান ওয়ারদাকের এই সেনাঘাটিকে মূলত ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট অব সিকিউরিটি (এনডিএস, আফগানিস্তানের মূল গোয়েন্দা সংস্থা) তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ ক্যাডাররা প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য এই ঘাটিতে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিস্ফোরক বোঝাই যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি হামভি গাড়ি দিয়ে প্রথমে বোমা হামলা চালানো হয়। এরপর তালেবান যোদ্ধারা এনডিএস’র নির্ধারিত পোশাকের ছদ্মবেশে ঘাটিতে প্রবেশ করে গুলি চালায়।
দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, হামলাকারীরা দেশের শত্রু। এদিকে স্থানীয় প্রাদেশিক কর্মকর্তা শরীফ হোতাক বলছেন, তালেবান হামলায় নিহতের সত্যিকারের সংখ্যা গোপন করছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আমাকে মৃতের সংখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বারণ করা হয়েছে। এমন ঘটনা লুকিয়ে রাখা হতাশাজনক।’
প্রসঙ্গত, গত তিন বছরে তালেবান হামলায় ২৮ হাজার আফগান পুলিশ অফিসার এবং সেনা সদস্য নিহত হয়েছে।
