নতুন ব্রেক্সিট প্রস্তাব উত্থাপন টেরিজার

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪২ পিএম

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন ব্রেক্সিট পরিকল্পনা উত্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। একই সময় পার্লামেন্টে দ্বিতীয় গণভোটের দাবি জানায় বিরোধী দল লেবার পার্টি। কিন্তু টেরিজা মে তার বক্তব্যে দ্বিতীয় গণভোটের সম্ভাবনা বাতিল করে দেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হলে যুক্তরাজ্যের সামাজিক সংহতি হুমকির মুখে পড়বে বলেও মনে করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন পার্লামেন্টে বলেন, এই প্রধানমন্ত্রী ইইউর শর্ত অথবা নো ডিল হুমকি উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমপিদের এখন এই অচলাবস্থা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

টেরিজার নতুন ব্রেক্সিট প্রস্তাবের মূল বিষয় আইরিশ ব্যাকস্টপে পরিবর্তন আনা। চুক্তিহীন ব্রেক্সিট পরিস্থিতি এড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ ও দ্বিতীয় গণভোট আয়োজন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। আগামী ২৯ জানুয়ারি নতুন প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন ব্রেক্সিট পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সংকট সমাধান করতে চাইলে তা নির্ধারিত ২৯ মার্চের মধ্যে সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত আইন ‘আর্টিকেল ৫০’-এর সংযোজনী (এক্সটেনশন) এনে তা বিলম্বিত করতে হবে। বিলম্বিত ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সফল করতে প্রথমত সময়সীমা বাড়ানোর জন্য ইইউর কাছে আবেদন জানাতে হবে। ইউরোপীয় কাউন্সিলে আয়োজিত ভোটাভুটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সমর্থন পেলে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করা যাবে।

গত সোমবার হাউস অব কমন্সে টেরিজা দাবি করেন, গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর প্ল্যান বি-তে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথম খসড়া প্রস্তাবে থাকা আইরিশ ব্যাকস্টপ পরিকল্পনা নিয়ে অনেকের মধ্যে আপত্তি রয়েছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আইরিশ রিপাবলিকের মধ্যে দৃশ্যমান সীমান্ত ও কাস্টমস চেক না রাখতে আইরিশ ব্যাকস্টপ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ফলে ইইউর একক বাজারের কিছু নীতিমালা মেনে চলবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড। পাশাপাশি, যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে টেকসই কোনো বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরভাবে যুক্তরাজ্য শুল্ক ব্যবস্থায় থাকবে। কনজারভেটিভ পার্টির অনেক আইনপ্রণেতা ও ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি ব্যাকস্টপের বিরোধিতা করছে। কারণ তাদের আশঙ্কা, এ নীতি স্থায়ী রূপ লাভ করলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশের জন্য আলাদা আলাদা নিয়ম জারি হতে পারে।

গত ৮ জানুয়ারি পার্লামেন্টে উত্থাপিত সরকারের একটি কর বিল আটকে দেওয়া হয়। বিলটি পাস না হওয়ার কারণে নো ডিল ব্রেক্সিটের পর নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কর বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা সীমিত হবে। টাকা তুলতে অন্য পথ খুঁজে নিতে পারবে সরকার। তবে বিলটি পাস না করার মধ্য দিয়ে এমপিরা নো ডিল ব্রেক্সিটকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত