তিন জেলায় তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লায় স্ত্রীকে খুন করে স্বামী সন্তানকে নিয়ে পালিয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্ত্রী গলা কেটে হত্যা করেছে স্বামীকে। আর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জামাতার হাতে শ^শুর খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
কুমিল্লা : কুমিল্লা মহানগরীর শাকতলায় স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে হত্যার পর শিশুসন্তান নিয়ে পালিয়েছে স্বামী। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার জায়েকবাজার এলাকার প্রবাসী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের মগের কলমিয়া গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে নাসিমার। কিছুদিন পর স্বামীকে তালাক দিয়ে নাসিমা দেবর শহীদউল্যাহকে বিয়ে করেন। কিন্তু সাড়ে তিন বছর আগে শহীদউল্যাহকে তালাক দিয়ে আগানগর গ্রামের মেহেদী হাসানকে বিয়ে করেন নাসিমা। বিয়ের দুই-তিন মাসের মাথায় তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। সোমবার ঘরে নাসিমার মৃতদেহ কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : জোরারগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুজয় কুমার জানান, উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকার লাকীর সঙ্গে বিয়ে হয় জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দেওয়ানপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইকেল মিস্ত্রি সনাতন মজুমদারের (৪৫)। দুই বছর আগে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে টেকনাফে চলে যায় লাকী। এর এক বছর পর সনাতন প্রিয়াংকা নামে একজনকে বিয়ে করে। কিছুদিন যেতে না যেতে হঠাৎ একদিন এসে হাজির হয় লাকি। তখন থেকে প্রিয়াংকা ও লাকির মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। একপর্যায়ে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। প্রতিদিন ঝগড়া, হাতাহাতি-মারামারি লেগেই থাকত। ঘটনার দিন রাতে স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করে প্রথম স্ত্রী।
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জের ধরে জামাতার ছুরিকাঘাতে শ্বশুর নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাতে আলীগঞ্জ মধ্যপাড়া এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। নিহত ওয়াহাব মিয়া (৫০) আলীগঞ্জ মধ্যপাড়ার মৃত কাদির মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জামাতা আলমগীর হোসেনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক আলমগীর দাপা উকিলবাড়ী মোড় এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে। ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (এসআই) ছালেকুজ্জামান জানান, ওয়াহাব মিয়ার মেয়ে শাহনাজ আক্তারের সঙ্গে আলমগীর হোসেনের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। দুই মাস আগে নারায়ণগঞ্জ আদালতে শাহনাজ আক্তার বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। সোমবার সন্ধ্যায় আলমগীর শ^শুরবাড়িতে গেলে স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। ওই সময় শ্বশুর ওয়াহাব মিয়া প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে প্রথমে মারধর ও পরে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন আলমগীর। স্থানীয়রা ওয়াহাব মিয়াকে উদ্ধার করে শহরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
