সিআইডি হেফাজতে কায়সার হামিদের ফেইসবুক লাইভ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:২০ এএম

পুলিশি হেফাজতে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকের লাইভে এসেছিলেন অর্থ আত্মসাতের এক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। গত সোমবার ওই লাইভে তিনি তুলে ধরেন তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য। এর পরপরই আদালতে পাঠানো হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন বিচারক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডিপ্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজি শেখ হিমায়েত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো আসামির সিআইডি কার্যালয়ে বসে ফোন বা ফেইসবুক ব্যবহারের তথ্য আমি পাইনি। সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা এটা বলতে পারবেন।’

মামলার তদারকি কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ সুপার আবদুুল্লাহেল বাকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার করার পর আমরা আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ দেই। এ সুযোগে কায়সার হামিদ কাজটি করতে পারেন। তবে আসামির ফোনে কথা বলা বেআইনি নয়। ফেইসবুক লাইভে আসার বিষয়টি আমি এখনো দেখিনি। আমি সেটা দেখব।’

কায়সার হামিদের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে, গত সোমবার বেলা ১২টা ১৩ মিনিটে লাইভে আসেন কায়সার হামিদ। ৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের লাইভে চশমা কপালের ওপরে তোলা কায়সার হামিদ চেয়ারে বসা ছিলেন; পরনে ছিল ঝালর দেওয়া সাদা রঙের শার্ট ও ব্লেজার। আয়েশি ভঙ্গিতে লাইভে তিনি বলেন, ‘ফ্রেন্ডস সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি নিজেও জানতাম না এমন একটা মামলা আছে। আসলে এটা আপসও করে নেওয়া হয়েছিল। তারপরও ২০১৪ সালের একটি মামলা পেন্ডিং ছিল।’

কায়সার হামিদ আরও বলেন, ‘দোয়া করবেন কী করা যায়, বড় মামলা না। একজনের একটা মামলা সাত লাখ টাকার, আরেকজনেরটা ২২ লাখের। আমি কিছু বুঝলাম না, অল্প কিছু টাকার জন্য মিডিয়াতে ফলাও করে ছাপল (সংবাদ)। এটাই অবাক হয়ে যাই, এত হাজার কোটি টাকা মানুষ নেয়, তাদেরকে কিছুই করা হয় না। সামান্য কিছু টাকা যেটা আমি জব করতাম কনসালট্যান্ট হিসেবে; জব করার সময় এই টাকাগুলো মিসইউজ করে কোম্পানি। তার দায় টোটালি আমার ঘাড়ের ওপর এসে পড়ে। কারণ কোম্পানির সবার মোবাইল বন্ধ এখন। কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না। ২০১৪ সালের ঘটনা; আজ থেকে পাঁচ বছর আগে। এটা আমার জানা ছিল না। সবাই ডোন্ট বি ওরিড। এটা তেমন কিছু না। আমার নিজের কাছেও খারাপ লাগছে। অল্প কিছু টাকার জন্য আমাকে হ্যারাজমেন্ট করা হচ্ছে। থানার ওসি যারা আছেন, আইজি সাহেবকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি কারও বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার আগে বোঝা উচিত আমি সেখানে কী অবস্থায় ছিলাম বা কী করতাম। যেখানে আমার কোনো ইনভলবমেন্ট নাই। শুধু কালার ফটোকপি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বাদীরা নিজেও বলেছে আমি সেখানে কনসালট্যান্ট ছিলাম। দেখা যাক কী করা যায়, আমি চেষ্টা করছি। প্রে ফর মি। আপনাদের আবারও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’

বনানী থানায় ২০১৪ সালের একটি মামলায় গত রবিবার রাতে এলিফ্যান্ট রোড থেকে কায়সার হামিদকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গত সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে দায়িত্ব পালনকারী মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার উপকমিশনার আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোনো আসামির ফেইসবুক লাইভে আসার বিষয়টি জানা নেই। তবে আমি যতদূর জানি, আসামি কায়সার হামিদকে বেলা ৩টার পরে আদালতে আনা হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত