প্রতিষ্ঠিত সন্তানরা কেউ রাখে না এ মায়ের খবর

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:১৮ পিএম

আশি বছরের বৃদ্ধা মৃদুল সাহা। ফেনী পৌরসভার মধুপুরের পোদ্দার বাড়ির খুপরি ঘরে খেয়ে-না খেয়ে, অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে। পাঁচ ছেলে-মেয়েরা সবাই প্রতিষ্ঠিত ও সচ্ছল জীবন-যাপন করলেও মায়ের খোঁজ রাখে না।

মঙ্গলবার বৃদ্ধার ছেলে মেজ ছেলে সুশান্ত সাহা এলাকাবাসীর কাছ থেকে তার মা মারা গেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশকে লাশ উদ্ধারের জন্য ফোন করলে পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে শহরের চালের আড়তের মালিক হরিপদ সাহা অগাধ ধন-সম্পদসহ স্ত্রী মৃদুল সাহা ও পাঁচ সন্তান রেখে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর দুই ছেলে বাপ্পি সাহা ও বিপুল সাহা চালের আড়ত দেখাশোনা করছেন।

তারা থাকেন তাদের মায়ের বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ফেনী শহরে। মেজ ছেলে সুশান্ত সাহা প্রশাসনিক কর্মকর্তা। চকারিসূত্রে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা মৃদুল সাহার মেয়ে শর্বরী সাহা ও গৃহিণী সুমি সাহা থাকেন তাদের শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু অসহায় মায়ের খোঁজ রাখেন না কেউই।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু ইউছুপ ভূঁইয়া বাদল জানান, মঙ্গলবার বৃদ্ধার মেজ ছেলে পুলিশকে খবর দেয় তার মা মারা গেছে তাকে উদ্ধার করতে হবে। পরে তিনিসহ পুলিশ দরজা ভেঙে জীবিত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন।

নুর মোহাম্মদ, নয়ন ও সোহাগ নামে স্থানীয় দুই বাসিন্দা জানান, মৃদুল সাহাকে উদ্ধারের পর মেয়ে শর্বরী সাহা হাসপাতালে এলেও তিনি মায়ের কাছে যাননি। দূর  থেকে খবর নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে কতক্ষণ আটকে রাখে।

বৃদ্ধার ছেলে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুশান্ত সাহা জানান, আমাদের তিন ভাইয়ের স্ত্রী মাকে রাখতে চায় না। সে জন্য তাকে আমাদের সঙ্গে রাখতে পারিনি। তবে মা গ্রামের বাড়িতে থাকতে চাইতেন বলেও তিনি জানান।

তিনি নিয়মিত মায়ের খোঁজ খবর রাখতেন বলে জানান।

সিভিল সার্জন ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির জানান, বৃদ্ধাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টা পর বলা যাবে তার শারীরিক অবস্থা। তিনি স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে ভুগতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, বৃদ্ধা মাকে সন্তানরা অবহেলা করে মেরে ফেলার পাঁয়তারা করছিল কি না তা দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত