মেহেরপুরের আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে ঘুষ দিলে পাসপোর্ট মিলে। আর ঘুষ না দিলে পাসপোর্ট পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। নানা টালবাহানায় ভোগান্তি পোহাতে হয় পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের। জেলার পাসপোর্ট কার্যালয় চত্বরে ঘুষ নেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।
পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে ঘুষ-বাণিজ্যের মাধ্যমে এখানে চলে পাসপোর্ট দেওয়া-নেওয়ার কাজ। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা এবং এক সপ্তাহের মধ্যে জরুরি পাসপোর্ট পেতে হলে ৬ হাজার ৯০০ টাকা ফি ব্যাংকে জমা দিতে হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আঞ্চলিক এই পাসপোর্ট কার্যালয়ে প্রতি মাসে গড়ে ৭০০ আবেদন জমা পড়ে। প্রতি পাসপোর্টে সর্বোচ্চ ২ হাজার থেকে সর্বনিম্ন ৮০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়।
গত বুধবার সকালে পাসপোর্ট কার্যালয়ে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী আবদুল বারির কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওতে এক আনসার সদস্যকে ঘুষের টাকা নিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে যেতে দেখা যায়। পরে বিক্ষুব্ধরা কার্যালয় ঘেরাও করে কর্মকর্তা-কর্মচারী-আনসারদের দুর্নীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে সেøাগান দেন। এরপর পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গেলে ওই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু মেহেরপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক গোলাম ইয়াসিন এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেন, কার্যালয়ের বাইরে কেউ ঘুষ নিলে তা ঠেকানো তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি দাবি করেন, তার কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অবান্তর।
মেহেরপুর শহরের বাসিন্দা রেজওয়ানুল হক রাজা জানান, জরুরি ফি দিয়েও তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট পাননি। বাড়তি আরও দুই হাজার টাকা দিয়েও পাসপোর্ট পেতে এক মাস লেগেছে। সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, দালাল না ধরলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফরমে বানান ভুল, সঠিকভাবে ফরম পূরণ না করাসহ নানা অজুহাত দিয়ে হয়রানি করা হয়।
শহরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী লিয়াকত আলী জানান, তার পাসপোর্ট দেওয়ার তারিখ ছিল গত ১১ নভেম্বর। অথচ তিনি এখনো পাসপোর্ট পাননি। পাসপোর্ট ডেলিভারি সিøপ নিয়ে মেহেরপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের বারান্দায় ঘুরছেন এমন অসংখ্য মানুষ।
ভুক্তভোগীরা জানান, দালালদের হাতে দেড়-দুই হাজার টাকা ঘুষ দিলে পাসপোর্ট মেলে। তা না হলে পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তির শেষ থাকে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী আরো কয়েকজন জানান, এসব দুর্নীতির কথা জানালে পাসপোর্ট আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি বলেন, পাসপোর্ট কার্যালয়ে মানুষের হয়রানি, অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
