হাওর রক্ষা বাঁধের কমিটিতে দুদকের আসামি

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৫৭ এএম

সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে (পিআইসি) দুদকের মামলার একাধিক আসামিকে রাখা হয়েছে। শুধু তা- ই নয়, তারা পিআইসির বিভিন্ন কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পেয়েছেন। ২০১৭ সালে বাঁধ নির্মাণের কাজে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় তারা এজাহারভুক্ত আসামি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন।

চলতি বছরের পিআইসি কমিটির তালিকা, দুদক আইনের মামলার এজাহার ও ২০১৭ সালের পিআইসির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য প্রদীপ ভৌমিক, তাড়ল ইউপির সদস্য লাল মিয়া, জগদল ইউনিয়নের কলিয়ারকাপন এলাকার মিজানুর রহমান ছোবা মিয়া, শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউপি সদস্য বশির মিয়া ও আবুল মিয়া এবারের পিআইসিতে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তারা সবাই ২০১৭ সালের দুদকের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এখানে কিছুদিন আগে এসেছি, ২০১৭ সালে কারা আসামি ছিল তা আমার জানা নেই।’ শাল্লা উপজেলার ইউএনও আল মুক্তাদির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। কেউ অভিযোগও করেনি।’ এদিকে হাওর বাঁচাও-সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় জানান, দুদকের মামলার আসামিদের এবার পিআইসির কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবদুল আহাদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবেন। দুদকের কোনো আসামিকে কমিটিতে রাখা হলে ওই কমিটি বাতিল করা হবে। তিনি বলেন, হাওরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়মকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত