চুল শব্দটি শুনলে সবার আগে আমাদের চিন্তায় যে স্মৃতি ভেসে ওঠে তা হলো আমাদের ছোটবেলার চুল। ছোটবেলায় আমার চুল যতটা ঘন, কালো, মজবুত ও সুন্দর ছিল এখন তার কিছুই নেই। ছোটবেলায় মায়ের হাতের সেই যত্ন, কত সময় নিয়ে মাথায় বিলি কেটে চুলে তেল দেওয়া এখন আর হয়ে ওঠে না। এখন বাতাসে ধুলাবালি, ব্যস্ত জীবনে চুলের যত্নে সময়ের অভাব ইত্যাদি কারণে ধীরে ধীরে চুল রুক্ষ, দুর্বল ও আরও নানা সমস্যায় আমরা ভুগে থাকি। চুলের নানা সমস্যা ও তার সমাধান জানালেন রূপ বিশেষজ্ঞ শ্যামলী কিসিম
চুল পড়া
চুল পড়া বন্ধ করতে আমরা অনেক কিছুই করে থাকি। চুল পড়ার অনেক কারণ হলো বংশগত, পরিবেশগত, দুশ্চিন্তা, পুষ্টিহীনতা ও ওষুধের প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টা চুল পড়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পড়ে গেলে অথবা যতটুকু চুল পড়ছে তার চেয়ে চুল কম গজালে তখন হলো চিন্তার বিষয়। এ জন্য আমাদের চুলের কিছু যত্ন সব সময় নিতে হবে। সপ্তাহে চারবার মাথায় নারিকেল তেল দিতে হবে। মাথায় নারিকেল তেল দেওয়ার আগে তেল হাল্কা গরম করে মাথায় দিয়ে ভালোভাবে বিশ মিনিট ম্যাসাজ করে নিন। তারপর একঘন্টা মাথায় তেল রেখে ভালোভাবে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।
চুলের আগা ফাটা
আমাদের কিছু বাজে অভ্যাসের জন্য চুলের আগা ফাটার সমস্যায় পড়ে থাকি। যাদের চুল লম্বা ও ঘন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চুল দুর্বল, পাতলা লালচে হয়ে যায় । এ জন্য চুলের এমন অবস্থা হওয়ার আগেই প্রতি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর পর চুলের অল্প পরিমাণ আগা কেটে নিতে হবে। এতে চুলের আগা ফাটা বন্ধ এবং এর সঙ্গে সঙ্গে চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া প্রতিদিন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকানো, গোসলের পর গামছা বা তোয়ালে দিয়ে চুল ঝাড়া, গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া, চুলে তেল না দিয়ে শ্যাম্পু করা ইত্যাদি অভ্যাসের কারণে চুলের আগা ফাটার সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
চুলে খুশকি
মাথায় ত্বকে শুষ্ক থাকার কারণে চুলে খুশকি হয়ে থাকে। বিশেষ করে শীতকালে খুশকি বেশি হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে অপরিচ্ছন্নতা, অ্যালার্জি ও বংশগত কারণেও খুশকি হয়ে থাকে। এ জন্য নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখতে হবে।
কম বয়সে চুল পেকে যাওয়া
কম বয়সে চুল পাকাকে বলে চুলের অকালপক্বতা। এর পেছনে জিনগত প্রভাবের পাশাপাশি পুষ্টির অভাব, অস্থিরতা, ধূমপান, মানসিক চাপ, চুলে রাসায়নিক ব্যবহার, জন্মগত কারণে হয়ে থাকে। এ জন্য যেসব কারণে চুল পাকার সম্ভাবনা বেশি তা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর জিনগত ও জন্মগত কারণে হলে চুলে বাজারের রাসায়নিক কালার ব্যবহার না করে, চুলে মেহেদি লাগাতে হবে।
প্রসূতিকালীন চুল পড়া
বাচ্চার যত্নের কারণে নিজের প্রতি অবহেলা ও হরমোনজনিত কারণে প্রচুর চুল পড়া বেড়ে যায়। এ জন্য বাচ্চার সঙ্গে সঙ্গে মাকে নিজের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রচুর পরিমাণে সুষম খাবার, শাক-সবজি, বাদাম, সিজনাল ফল খেতে হবে। এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
স্ক্যাল্প ম্যাসাজ
সপ্তাহে দুদিন সময় বের করে স্ক্যাল্পে তেল ম্যাসাজ করতে পারি, তাহলে চুলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকার হবে। স্ক্যাল্প ম্যাসাজ চুল ও মাথার তালুর স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ও আরামদায়ক। স্ক্যাল্প ম্যাসাজের মাধ্যমে দুশ্চিন্তা দূর হয়, ব্রেইনের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি, থাইরয়েড অসুখ নিয়ন্ত্রণ, চোখের নার্ভাসনেস দূর, চুলের খুশকি রোধ, পরিমিত ঘুমে সহায়তা করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। স্ক্যাল্প ম্যাসাজ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।
