দুই সরকারের দেশ এখন ভেনেজুয়েলা!

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:২৩ পিএম

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠায় দেশটির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অবস্থান এখন অনেকটাই নড়বড়ে। বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

আলজাজিরা জানায়, দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনার জন্য গত বছরের শেষের দিকে বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জিতে আসলেও বিরোধী দল তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের অধিকাংশ দেশ এ নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিলে পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়।

মাদুরোকে হটাতে শুরু হয় রাজনৈতিক বিক্ষোভ। ১০ জানুয়ারি মাদুরো ক্ষমতা গ্রহণ করলে দেশটিতে সহিংস পরিস্থিতি শুরু হয়। নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী দলের ওপর শুরু হওয়া নিপীড়ন, গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকে।

বুধবার মাদুরো সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদো নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা দেন।

রাজধানী কারাকাসে এদিন কয়েক হাজার মানুষের সামনে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন গুয়াইদো। এতে বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

এখন কার্যত দুই সরকারের দেশ হয়ে পড়েছে ভেনেজুয়েলা। সেই সঙ্গে দুই প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানেও সৃষ্টি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি।

একদিকে সেনাসমর্থিত মাদুরোর সরকারের পাশে রাশিয়া আর গুয়াইদোর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অ্যাসেম্বলি বক্তৃতায় গুয়াইদোর অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, গুয়াইদো জনগণের পক্ষে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনের শাসন ও স্বাধীনতার দাবিতে মাদুরোর বিরুদ্ধে তার এ অবস্থান।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানে ক্ষিপ্ত মাদুরো দেশটি থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ‘ভেনেজুয়েলা ছাড়ো’ বলে তাদেরকে ৭২ ঘণ্টার সময়ও বেঁধে দেন। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদলীয় নেতা গুয়াইদো মার্কিন কূটনীতিকদের অবস্থান চান। সেটি তিনি এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেনও।

তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বিরোধী দলের ঘোষণা বাতিলের চেষ্টা করলে মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত যা কার্যত ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর প্রতি বড় ধরনের হুমকি।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাদুরোকে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, সম্পর্ক ছিন্ন করার তার কোনো ক্ষমতা নেই।

এদিকে ব্রাজিল, কলাম্বিয়া, চিলি, পেরু ও আর্জেন্টিনার মতো বেশ কয়েকটি দেশ গুয়াইদোকে সমর্থন দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার মানুষকে স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি দিতে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে গুয়াইদো সরকারের পাশে তাদের এ অবস্থান বলে দেশগুলো জানায়।

মেক্সিকো ও উরুগুয়েরও জোরালো সমর্থন পায়নি মাদুরো। বরং আইনি শাসন ও মানবাধিকারের ওপর পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সমঝোতা ও বিশ্বাসযোগ্য আলোচনার শুরু করার নতুন প্রস্তাব দিয়েছে এ দুই দেশ।

দীর্ঘদিনের মিত্র কলম্বিয়া সরে দাঁড়ালেও তুরস্ক ও কিউবা মাদুরো সরকারের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক টুইটার বার্তায় জানান, সেনাবাহিনী স্বঘোষিত সরকারকে মেনে নেবে না। গুয়াইদোর সরকার ঘোষণাকে ‘অসৎ স্বার্থ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে মাদুরোকে ফোন করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানও তার সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘মাদুরো ভাই আমার, তুরস্কের জনগণ আপনার পাশে আছে।’

এদিকে ভেনেজুয়েলার সংবিধানে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের পদ খালি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানাতে হবে। সেক্ষেত্রে পার্লামেন্ট কংগ্রেসের প্রধান দেশটির নির্বাচনকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন।

কিন্তু মাদুরো সমর্থিত সুপ্রিম কোর্ট রুল জারি করেছে, এ মুহূর্তে কংগ্রেসের যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত অকার্যকর।

দেশটির সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানা যাচ্ছে, গুয়াইদো অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন মাদুরো। তিনি তাকে বন্দী করার হুমকি দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত