বচ্চন ও গান্ধী পরিবারের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছিল ২০০০ সালে। সেই দূরত্ব মুছে গেছে সম্প্রতি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রের সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পেছনে রয়েছে অমিতাভ বচ্চনের পরামর্শ।
বোনকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করে বুধবার পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেন রাহুল গান্ধী। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশ জুড়ে কংগ্রেস নেতা–কর্মী–সমর্থকরা নতুন করে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন।
কিন্তু সবাই জানার আগে এই খবর প্রথম জানতেন ‘মামুন’। তার পরামর্শতেই রাজনীতিতে আসতে রাজি হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। কে এই ‘মামুন’?
ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, বলিউডের কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনকে ছোটবেলা থেকে ‘মামুন’ বা ‘মামা’ বলেই ডাকেন প্রিয়াঙ্কা। রাজনীতিতে আসার ঠিক একদিন আগেই দিল্লিতে অমিতাভের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন তিনি। এরপরই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বোনের রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দেন।
এই ঘটনা দিয়েই ১৮ বছর পর গান্ধী পরিবারের সঙ্গে বচ্চন পরিবারের সম্পর্কের জোড়া লাগল, যখন লোকসভা নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত ভারত।
গান্ধী–বচ্চন দুই পরিবারের মধ্যে বিচ্ছেদ হয় ২০০০ সালে। কিছুটা ব্যক্তিগত কারণেই সম্পর্কের ভাঙন ধরেছিল বলে জানা যায়। যদিও একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন অমিতাভ। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একরকমভাবে ভেঙে গিয়েছিলেন তিনি।
শোনা যাচ্ছে, বচ্চন পরিবারের সঙ্গে আবারও বন্ধুত্ব করতে রাজি হয়েছে গান্ধী পরিবার। দিল্লিতে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা ও তাদের মা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন সস্ত্রীক অমিতাভ বচ্চন, ছেলে অভিষেক ও পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া।
সম্প্রতি ডানপন্থী সংগঠনের কাছ থেকে অমিতাভ স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য অনবরত সমালোচিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও যখন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা–পরিচালকরা গিয়েছিলেন, সেখানেও দেখা যায়নি তাকে।
৪৩ বছর আগে উল্টো পরিস্থিতিতে অমিতাভকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। ১৯ মাস ধরে চলা জরুরি অবস্থার সময় কিশোর কুমারের ওপর অল ইন্ডিয়া রেডিও ও দূরদর্শন থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অভিনেতা প্রাণ ও দেব আনন্দ সরকারের সমালোচনা করায় তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস। কিন্তু নীরব ছিলেন অমিতাভ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগ বি’র সঙ্গে কংগ্রেসের পারিবারিক বন্ধুত্ব থাকায় তিনি ওই পরিস্থিতিতে চুপ ছিলেন।
