একুশে বইমেলা চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৭ এএম

অমর একুশে গ্রন্থমেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন লেখক-প্রকাশক এবং মেলা আয়োজক বাংলা একাডেমি। গত বছরের মতো এবারও মেলা বসবে একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশ জুড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টল নির্মাণের কাজ করছেন শ্রমিকরা। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ মুখর হাতুড়ি-বাটালের শব্দে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাজ করছিলেন মিস্ত্রি সবুজ মিয়া। তিনি বলেন, ‘মেলায় পাঁচটা স্টলের কাজ নিছি। ২৮ তারিখের আগেই শেষ করে দিতে পারমু।’  বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্টল বরাদ্দ শেষে এখন নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত এ কাজ চলবে। প্রকাশকদের বলে দিয়েছি, ৩১ জানুয়ারি কেউ স্টলের কাজ করতে পারবেন না। পয়লা ফেব্রুয়ারি মেলা উদ্বোধনের পর আর কোনো হাতুড়ির শব্দ শুনতে চাই না।’

তিনি জানান, এবারের আয়োজন আরও নান্দনিক করার লক্ষ্যে কাজ করছেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর ও তার দল। মেলার নকশায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভটিকে মূল ফোকাসে রাখা হচ্ছে। উদ্যানের উত্তর দিকে যেন অন্ধকার না থাকে সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশ দিয়ে একটা প্রবেশদ্বার রাখা হতে পারে বলে জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। মেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, নিরাপত্তার প্রয়োজনে টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকবে পুরো এলাকা।

এবার মেলার প্রথম দিন থেকেই একটি টাস্কফোর্স স্টল এবং বইয়ের ওপর নজরদারি করবে। কোনো বই নিয়ে টাস্কফোর্সের সদস্যরা আপত্তি জানালে মেলা কমিটি যাচাই করে সেই বই বা প্রকাশনা সংস্থার অনুমোদন বাতিল করবে। সাহিত্যচিন্তায় এ ধরনের নজরদারি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে কি না জানতে চাইলে হাবীবুল্লাহ্ সিরাজী বলেন, ‘আমি তা মনে করি না। সবকিছুর একটা নিয়ম থাকা উচিত। এই মেলা পরিচালনার একটা নীতিমালা আছে। এখানে বিদেশি কোনো লেখকের বই রাখা যায় না, দেশি লেখকদের বই রাখতে হবে। তেমনই মেলার চরিত্রের সঙ্গে যায় না, এমন বইয়ের ব্যাপারে টাস্কফোর্সের নজরদারি ইতিবাচকই মনে করি।’ এবারের মেলায় যুক্ত হয়েছে ১৯টি নতুন প্রকাশনা সংস্থা। বহেড়াতলায় বসবে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর। প্রথমবারের মতো থাকছে ‘লেখক বলবেন’ নামে একটি কর্নার। সেখানে তরুণ লেখকরা তাদের নতুন বই নিয়ে কথা বলবেন। এদিকে গত বুধবার বাংলা একাডেমির সভাকক্ষে মেলার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। আগামী ২৭ জানুয়ারি দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণের ত্রুটি-বিচ্যুতি নির্ণয়ে পরিদর্শন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ একাডেমির কর্মকর্তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত