ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চুরির অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী রুবেল নামে এক কিশোরকে বেঁধে পেটানোর মামলায় হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে চরফ্যাশন বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোর চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত ১৪ নভেম্বর রাতে চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ওই কিশোরকে হাত ও পায়ের মাঝে লাঠি বেঁধে নির্যাতন করে ইউপি সদস্য আমজাদসহ আরও কয়েকজন। নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার সাহস পায়নি। তবে সম্প্রতি নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের টনক নড়ে।
এরপর গত শুক্রবার স্থানীয়দের সহায়তায় ওই কিশোরের মায়ের কাছ মামলা নেন শশীভূষণ থানার পুলিশ। মামলায় হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমজাদ হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। শশীভূষণ থানার (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরফ্যাশন বাজারে অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সকালে আরেক আসামি বাবুলকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুলকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দ্ইু দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। বাবুলের দেওয়া তথ্যে আমজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাবুলের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘আমজাদ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা-সহ জেলেদের ওপর নির্যাতন করত। চড়া সুদে সে জেলেদের ঋণ দিত। ফলে জেলেসহ এলাকাবাসী তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কথাও আমজাদ মানত না।’
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৪ নভেম্বর রাতে কবির তালুকদার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার প্রতিবেশী ওই কিশোরের বিরুদ্ধে মুরগি চুরির অভিযোগ করেন ইউপি সদস্য আমজাদের কাছে। এরপর আমজাদ ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা ওই কিশোরকে হাজারীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে হাত ও পায়ের মাঝে লাঠি বেঁধে নির্যাতর করে।
নির্যাতিত ওই কিশোরের মায়ের অভিযোগ, ঘটনার পর শশীভূষণ থানায় গিয়ে ওসিকে না পেয়ে তিনি এসআই পবিত্র কুমারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই পুলিশ সদস্য তাকে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন। তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই পবিত্র বলেছেন, এ রকম কোনো ঘটনা থানায় ঘটেনি।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শোভন বসাক জানান, নির্যাতনের শিকার ছেলেটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তাকে এখনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেন জানান, আমজাদকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের চৌকস কয়েকটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে হাইকোর্ট এ ঘটনায় মামলা করতে বিলম্বের কারণ, আসামি গ্রেপ্তার ও নির্যাতিত কিশোরের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়ে আগামী রবিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে শশীভূষণ থানার ওসিকে।
