কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কয়লার ট্রাক উল্টে নিহত ১৩ শ্রমিকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের সবার বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। শুক্রবার ভোরে উপজেলার গোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর এলাকায় এমরান ব্রিক ফিল্ডে (কাজী এন্ড কোং) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার বিকাশ চন্দ্র রায় (২৭), রঞ্জিত চন্দ্র রায় (৩৩), কনক চন্দ্র রায় (৩৫), মো. সেলিম (২৮), মো. মোরসালিন (১৮), মনোরঞ্জন চন্দ্র রায় (২৩), শঙ্কর চন্দ্র রায় (২৪), দিপু চন্দ্র রায় (১৯), অমৃত চন্দ্র রায় (২০), মৃণাল চন্দ্র রায় (২১) তণ চন্দ্র রায় (২৫), মাসুম (১৮) বিপ্লব (১৯)।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের নীলফামারী পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ব্রিক ফিল্ডের জন্য আনা একটি ট্রাক থেকে কয়লা নামানোর সময় তা উল্টে গিয়ে ব্রিক ফিল্ডে ঘুমন্ত শ্রমিক ছাউনির উপর পড়ে।
এতে কয়লা চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
মারাত্মক আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। হতাহতরা নীলফামারী জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
ওই ইটভাটার কয়েকজন শ্রমিক জানান, রাতে কয়লাভর্তি ট্রাকটি ইটভাটায় পৌঁছায়, সকালে কয়লা আনলোড করার কথা ছিল। ভাটার মালিকের নির্দেশে রাতেই জোরপূর্বক ট্রাক থেকে কয়লা নামাতে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ইটভাটাটি স্বল্প সময়ে মালিকানা বদল হয় কয়েকবার। প্রথমে এই ভাটার মালিক ছিলেন মো. এমরান, তার থেকে মালিকানা বদল হয় শ্যালক কাজী সোহেলের নামে। এমরান ব্রিক ফিল্ড থেকে হয় কাজী এন্ড কোং নামে, এর কিছু দিন পরে কাজী সোহেল এটি বিক্রি করে দেন আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে। যার ফলে ব্রিক ফিল্ডে শ্রমিকরাও স্থায়ী হতো না।
ইট ভাটার দুর্ঘটনার কথা শুনে সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। তিনি নিহত শ্রমিকদের ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
