সোনারগাঁয়ে বিষাক্ত শিল্পবর্জ্যরে প্রভাব

হুমকিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:১৭ এএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে টিপুরদী এলাকার একটি শিল্প-কারখানার নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যরে প্রভাবে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। প্রায় এক যুগ ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি তাদের বিষাক্ত বর্জ্য আশপাশের খাল ও ডোবা-নালায় ফেলার কারণে এখানকার ৩০টি গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সোনারগাঁও পৌরসভার টিপুরদী এলাকায় অবস্থিত চৈতি গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান চৈতি কম্পোজিট লিমিটেড ২০০৬ সালে উৎপাদন শুরু করে। তখন থেকেই ওই এলাকার খাল ও জলাশয়ে অপরিশোধিত বিষাক্ত বর্জ্য ফেলছে। এতে আশপাশের খাল ও জলাশয়গুলোর পানি নষ্ট হয়ে পানির রং কালচে বর্ণ ধারণ করেছে। তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত এ পচা পানি খালের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী মারিখালী নদে গিয়ে মেশার ফলে পৌর এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মোগরাপাড়া ইউনিয়নেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। কারখানাটির অপরিশোধিত বর্জ্যরে কারণে পৌরসভার টিপুরদী, রতনদী, গোয়ালদী; মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মোগরাপাড়া, দলদার, বিন্নিপাড়া, কাবিলগঞ্জ, লেবুছাড়া, ভাটিপাড়া, ফুলবাড়িয়া, গোহাট্টা, সোনাখালী, দমদমাসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ এখন মারাত্মক দূষণের শিকার।

এলাকাবাসী এ দূষণ বন্ধের প্রতিবাদে ওই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি। সরেজমিন ওই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, মাটির নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে কারখানাটির বিষাক্ত বর্জ্য পাশের খালে ফেলা হচ্ছে। সোনারগাঁ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন জানান, কারখানাটির বিষাক্ত বর্জ্যে এলাকার কয়েকটি পুকুরের মাছ মরে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এলাকাবাসী জানায়, কারখানাটিতে ইটিপি থাকলেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা প্রশাসনের কেউ কারখানা পরিদর্শনে এলে অল্প সময়ের জন্য ইটিপি চালু রাখা হয়। পরে তা বন্ধ করে বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি গোপন নালা দিয়ে মেনিখালী, ব্রহ্মপুত্র নদে ফেলা হয়। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২০০৮ সালের মার্চ মাসে যৌথ বাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তর কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। পরে বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যাপারে নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই বছরই কারখানাটি আবার চালু করা হয়। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে একইভাবে বিষাক্ত বর্জ্য নিষ্কাশন অব্যাহত রেখেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে দূষিত বর্জ্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার কারণে পার্শ্ববর্তী প্রায় কয়েকশ হেক্টর জমির মাটি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়র সাদেকুর রহমান জানান, চৈতি কম্পোজিটের বর্জ্য খোলা জমিতে ফেলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে পৌরসভা থেকে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। তবে চৈতি কম্পোজিটের উপব্যবস্থাপক বদরুল আলম দাবি করেন, তারা ইটিপি প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে পানি পরিশোধন করে তাদের নিজস্ব জমিতে ফেলছেন। সোনারগাঁ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত