চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পশুপাখি ঠাসাঠাসি

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:৫৪ এএম

১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পশুপাখির সংখ্যা বাড়লেও বাড়ানো হয়নি এর আয়তন। কয়েক বছর আগেও প্রয়োজনীয় পশুপাখির অভাবে দর্শনার্থী শূন্য হয়ে পড়েছিল এই পর্যটন স্পটটি। নিত্যনতুন প্রাণী সংযোজনের পর বর্তমানে নগরীর অন্যতম এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন ভিড় করছে হাজারো দর্শনার্থী। কিন্তু এখন সেখানে তৈরি হয়েছে এক প্রকার ঘিঞ্জি পরিবেশ। হাঁসফাঁস অবস্থা সেখানকার প্রাণীগুলোর। অন্যদিকে বিরক্ত হচ্ছেন সেখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরাও। এ অবস্থায় দ্রুত আয়তন বাড়ানো না হলে দর্শকশূন্য হয়ে পড়ে বিনোদন কেন্দ্রটি আবারও মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই চিড়িয়াখানায় বর্তমানে বাঘ, ভালুক, সিংহ, হরিণ, কুমির, জেব্রা, উটপাখি, অজগর ও কুমিরসহ প্রায় ৬৬ প্রজাতির ছয় শতাধিক পশুপাখি রয়েছে। নগরীর ফয়’স লেক এলাকায় পাঁচ একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হয় এ চিড়িয়াখানা। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটি ছাড়াও সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে এ বিনোদন কেন্দ্রটিতে ভিড় হয় চোখে পড়ার মতো।

চিড়িয়াখানায় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থের একটি পক্ষীশালার খাঁচাসহ রয়েছে বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচা। এর মধ্যে ভালুকের খাঁচার সামনে গিয়ে দেখা যায়, ভালুকগুলো চলাফেরা করতেই রীতিমতো বিরক্ত। ছোট্ট জায়গায় গাদাগাদি করে থাকতে গিয়ে তারা নিজের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যই হারিয়ে ফেলছে। চিড়িয়াখানাটিতে বাঘের থাকার জায়গাও খুব সঙ্কীর্ণ।

প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, কম পরিসরে বসবাসের ব্যবস্থা করলে বন্যপ্রাণীর আয়ু ধীরে ধীরে কমে যায়। বন্যপ্রাণী আর গবাদিপশু এক নয়। চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলো যদি গবাদিপশুর মতো একই পরিবেশে রাখা হয়, তবে তারা তাদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাবে। এসব প্রাণী বিস্তৃত জায়গার অভাবে শুয়ে-বসে থাকবে, আর একসময় হয়ে পড়বে নিস্তেজ।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বড় প্রাণীগুলো যদি খোলা জায়গাজুড়ে বিচরণ করতে না পারে, তাহলে তারা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়। এখানে বর্তমানে বাঘের জন্য দরকার দুই হাজার বর্গমিটার জায়গা, তাহলে বাঘ তার স্বভাবগত সব বৈশিষ্ট্যে প্রাণচাঞ্চল্য প্রকাশ করবে। এতে দর্শনার্থীরাও পাবেন নির্মল আনন্দ। কিন্তু জায়গার অভাবে ৬০০ বর্গমিটারের মতো জায়গায় আমরা বাঘ রাখতে বাধ্য হচ্ছি। তেমনি দুটি ভালুক আছে তিনশ বর্গমিটার জায়াগায়, অথচ প্রয়োজন এক হাজার বর্গমিটার। এছাড়া গয়াল, উটপাখি ও সিংহসহ প্রত্যেক প্রাণীর জন্য আরও বেশি জায়গা দরকার। এখানে প্রায় ছয়শ প্রাণী আছে। দিন দিন এগুলোর সংখ্যা আরও বাড়বে। বড় পরিসরের জায়গা হলে প্রাণীগুলো সুস্থ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও থাকে।’ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘসহ বিভিন্ন পশুপাখি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু ছোট্ট জায়গায় অনেক মানুষের ভিড়ে বিরক্ত তারা।

গতকাল শুক্রবার রাউজানের নোয়াপাড়া থেকে আসা শ্রীপর্ণা ভদ্র নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘চিড়িয়াখানায় অনেক প্রাণী, ব্যবস্থাপনাও সুন্দর। কিন্তু জায়গা ছোট হওয়ায় ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নেই। বাবু কান্নাকাটি করছে, তাই চলে যেতে বাধ্য হচ্ছি।’

এ বিষয়ে চিড়িয়াখানার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সচিব ও হাটহাজারী উপজেলার ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, ‘চিড়িয়াখানার বর্তমান জায়গাটা অনেক ছোট। আমরা চেষ্টা করছি চিড়িয়াখানার পাশের রেলওয়ের পাহাড়ি জায়গাটি অধিগ্রহণ করতে। রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের কিছু জমিও আছে চিড়িয়াখানার পেছনে। এসব জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে চিড়িয়াখানার আয়তন বাড়ানো হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত