রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘের দূত ভাসানচর মিয়ানমারকে ভুল বার্তা দেবে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:২৯ এএম

কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হলে মিয়ানমারের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংগি লি। তিনি বলেন, ‘এর ফলে মিয়ানমার মনে করতে পারে, বাংলাদেশেই রোহিঙ্গাদের স্থায়ী দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হচ্ছে। তাদের ফেরত না নিলেও চলবে।’ একই সঙ্গে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিবর্তে এখনো ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশে বিতাড়নের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। হেলিকপ্টারে ভাসানচরের পরিস্থিতি দেখে এসে গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। ইয়াংগি লি তাড়াহুড়ো করে রোহিঙ্গাদের ভাসানচর মিয়ানমারকে ভুল বার্তা দেবে ভাসানচরে স্থানান্তর না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় হলে ভাসানচরে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সেটা না দেখে এবং দ্বীপটির সুযোগ-সুবিধা যাচাই না করে রোহিঙ্গাদের সেখানে পাঠানো উচিত হবে না।’ রোহিঙ্গাদের সরেজমিনে দ্বীপটি দেখানোর সুযোগ করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। যেন তারা নিজেরা সেখানে যাওয়া না-যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের পাঠানো হলে মিয়ানমারের কাছে ভুল বার্তা দেওয়া হবে। মিয়ানমার এমন বার্তা পেতে পারে যে, বাংলাদেশেই রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে, তাদের ফেরত না নিলেও চলবে। তারা (মিয়ানমার) একটি জঘন্যতম অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে বলে ভাবতে পারে।’

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় এক লাখকে ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাড়িঘরসহ নানা ধরনের ব্যবস্থাপনা নির্মিত হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘের এই দূত বলেন, ‘তাদের ফিরিয়ে নিতে যেতে হলে যে পরিস্থিতি তৈরি করা দরকার মিয়ানমার তা একেবারেই করছে না, বরং এখনো সহিংস পথ বেছে নিচ্ছে। যে কয়জন রোহিঙ্গা এখনো মিয়ানমারে আছে তাদের জন্য ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে ধীরে ধীরে বাংলাদেশে বিতাড়নের পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শূন্যরেখায় অবস্থান করা কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে নিয়মিত ফাঁকা গুলি ছুড়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, যাতে তারা বাংলাদেশে ঢুকে যায়।’ ইয়াংগি লি বলেন, ‘বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা অদূর ভবিষ্যতে মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারবেÑ এমন কথা বলা যাচ্ছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত