টিউলিপের ঘটনার পর পাল্টাচ্ছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিধি

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:৫৬ এএম

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের প্রক্সি ভোটদান বিধি পাল্টে গেছে। আগামী এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে পার্লামেন্টে প্রক্সি ভোটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। এর ফলে এখন থেকে গর্ভবতী কোনো সাংসদ শারীরিকভাবে হাউস অব কমন্সে উপস্থিত না থেকেও প্রতিনিধির মাধ্যমে সংসদীয় ভোট দিতে পারবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি এবং যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক গর্ভাবস্থায় পার্লামেন্টে প্রক্সি ভোট না দিতে পারায় সমালোচনা শুরু হয়। হাউস অব কমন্সে হুইল চেয়ারে বসা টিউলিপের ছবি বিশ্ব মিডিয়ায় জায়গা করে নেয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াও নারীদের প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ভোট দেওয়ার ওই বিধি পরিবর্তনে টিউলিপের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহেই কমন্সে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়। সদ্য বাবা-মা হওয়া সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে এক বছরের জন্য প্রক্সি ভোটিং চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এখন সংসদ সদস্যরা তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য অন্য একজন সংসদ সদস্যকে মনোনীত করতে পারবেন।

প্রক্সি ভোটিংয়ের বিধান পরিবর্তনকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন টিউলিপ। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের নির্বাচনে জয় পাওয়ার পরই আমি প্রক্সি ভোটিংয়ের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। কিন্তু তখন আমাকে অনেকেই বলেছিলেন, চেষ্টা করে লাভ হবে না। কমন্সের বিধি পাল্টাবে না। কিন্তু আজ সে বিধি পাল্টেছে। এখন থেকে নতুন বাবা-মা হওয়া সংসদ সদস্যরাও ভোট দিতে পারবেন।’ টিউলিপের দাবির এই জয়ে প্রশংসা করেছেন অনেকে।

হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়নে কমন্সের সদস্য নির্বাচিত হওয়া টিউলিপ সন্তান প্রসবের জন্য তার ভোটাধিকার প্রশ্নে আপস করতে রাজি হননি। কিন্তু ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের নিয়ম, সংসদ সদস্যকে শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হবে। তাই নির্ধারিত সিজারিয়ান অপারেশন বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

নিয়মের কারণে গত ১৫ জানুয়ারি হুইল চেয়ারে করে হাউস অব কমন্সে যান ভোট দিতে। ব্রেক্সিট কার্যকরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মের প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তিটি পাসের জন্য আয়োজিত ভোটাভুটিতে নিজের গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিতেই তিনি ওই অবস্থাতেও আসেন।

লেবার পার্টির এমপি জেস ফিলিপস এ বিষয়ে বলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক, কর্র্তৃত্ববাদী, জুলুমবাজ, পুরাতন মানসিকতার’ বশবর্তী হয়ে যদি কেউ এই বিধির বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ‘নারীবাদীদের আর্মি’ দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে। লেবার পার্টির নেতা হ্যারিয়েট হারম্যান বলেছেন, ৩১ বছর অনেক বেশি দীর্ঘ সময় তার জন্য। তারপরও তিনি অনেক খুশি এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত