প্রজাতন্ত্র দিবসেও এতটুকু শান্ত হয়নি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য মিজোরাম। সাধারণ মানুষ দিবসটি বয়কট করায় শনিবার প্রায় ফাঁকা মাঠে আয়োজন শেষ করতে হয় গভর্নর কুম্মানাম রাজশেখরনকে।
জানুয়ারির শুরুতে ভারতের লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় মিজোরামবাসী ফুঁসে ওঠে। কয়েক দিন ধরে ‘চীন জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, ভারত ছেড়ে চীনের অধীনে চলে যেতে চান।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল চূড়ান্তভাবে পাস হয়ে গেলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ‘অত্যাচারিত’ হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ এবং পার্সিরা ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে সেখানে বসবাস করতে পারবেন। মিজোরাম এটি মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি, ভারত সরকার তাদের কথা না ভেবে অভিবাসীদের নিয়ে মগ্ন।
প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই মিজোরামের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন মিজো স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এমএসএ) সরব হয়ে ওঠে। মানুষকে তারা দিবসের কার্যক্রম বয়কট করতে উৎসাহ দেন।
প্রথামাফিক প্রজাতন্ত্র দিবস পালনে কোনো ত্রুটি ছিল না মিজোরামের রাজধানী আইজলে। ছয় কোম্পানি সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশ নেয় আরও ৩০ কোম্পানি। কিন্তু গ্যালারি ছিল ফাঁকা।
বিলের প্রতিবাদে এর আগে মিজোরামে যৌথ মিছিলও বের করে নেসো, এমজেডপি, ইয়ং মিজো অ্যাসোসিয়েশন। সেই মিছিলে ভারত বিরোধী পোস্টারের পাশাপাশি দেওয়া হয়েছিল চীনের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও। বলা হয়েছিল ‘হ্যালো চায়না, বাই বাই ইন্ডিয়া’।
মিছিলে অংশ নেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। সেখানে নেতাদের বক্তব্য ছিল, ‘ভারত সরকার যখন আমাদের কথা শুনছে না, তখন চীনের প্রতি হাত বাড়ানোই ভাল।’
রাজ্যপাল কুম্মানাম রাজশেখরন তার ভাষণে বলেন, ‘রাজ্যের সীমানা সুরক্ষিত রাখতে কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় যারা বসবাস করেন, তাদের উন্নয়ন এবং জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’
