গড়াই সেতুতে এখনো টোল দিতে হয়

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:০৬ এএম

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কামারখালীতে গড়াই নদীর ওপর নির্মিত গড়াই সেতু উদ্বোধন করা হয় ১৯৯১ সালে। সেতুটি চালু হওয়ার পর গত ২৮ বছরে টোল আদায়ের মাধ্যমে সেতুটির নির্মাণ খরচ বহু আগেই উঠে গেছে। কিন্তু তারপরও চলছে টোল আদায়।

গড়াই সেতু দৈর্ঘ্যে ৬২২ মিটার। ১৯৯১ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সেতুটির উদ্বোধন করেন। সেতুটির নির্মাণ খরচ হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা। ফরিদপুর সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত ১৪৭ কোটি টাকার বেশি টোল আদায় করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১ জুলাই থেকে ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪০ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের জন্য এ সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স মোস্তফা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ সেতু পার হতে সবোর্চ্চ ৫৬৫ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ৫ টাকা পর্যন্ত টোল দিতে হয়। টোল আদায়ের দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক কার্তিক দত্ত জানান, প্রতিদিন গড়ে এ সেতু দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার যানবাহন চলাচল করে। টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা আরেক ব্যাবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, এ টোল ঘর থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা টোল আদায় হয়।

গড়াই সেতু দিয়ে চলাচলকারী মাগুরার ট্রাকচালক নাসির হোসেন মোল্লা জানান, তার ট্রাকটি মূলত বালু আনা-নেওয়ার কাজ করে। এ কাজে প্রতিদিন ১০ বার ওই সেতুটি অতিক্রম করলে ১০ বারই টোল দিতে হয়। ওই পথে চলাচলকারী ফরিদপুর সদরের মুন্সী বাজার এলাকার মাইক্রোবাস চালক মো. আয়নাল হোসেন জানান, গত ২৮ বছর ধরে আমাদের এ সেতু পারাপারের জন্য টোল দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জানি না টোল দেওয়ার এ অবস্থা থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব।’ ফরিদপুর বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম ভূইয়া বলেন, এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার বাস চলাচল করে। এ টোল দেওয়া বন্ধ হলে যাত্রী ভাড়াও কমবে। এ বিষয়ে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ ম রকিবুল বারি বলেন, সড়ক বিভাগের উদ্যোগে গড়াই সেতুর টোল আদায় করা হলেও এ টাকা জমা হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সেতুর নির্মাণ খরচ উঠে গেলে টোল তুলে নেওয়া হবে এমন কোনো নির্দেশনা নেই। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত