ঢাকার সদরঘাট থেকে নোয়াখালীর হাতিয়াগামী লঞ্চে চোরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। আগেও টুকিটাকি চুরি হয়ে এলেও বর্তমানে যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। চুরির সঙ্গে লঞ্চের কর্মচারীরা জড়িত হয়ে পড়ায় আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা।
লঞ্চে চুরির অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে ঢাকার সদরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চগুলোতে চুরি বন্ধে আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। যাত্রীদের অভিযোগ কোনো লঞ্চ কর্র্তৃপক্ষই চুরির ঘটনা বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি চুরি করে ধরা পড়ার পর লঞ্চ কর্মচারীকে আবার লঞ্চে কর্মরত অবস্থায় দেখা যায়। ফলে দিনদিন চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। কিছু ক্ষেত্রে অনেক দেনদরবার করে সামান্য ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা খুবই সামান্য। আর সনদপত্রের মতো দরকারি ডকুমেন্টস চুরি হয়ে গেলে এর যন্ত্রণা কেবল ভুক্তভোগীই উপলব্ধি করতে পারেন। গত ২১ জানুয়ারি ঢাকার সদরঘাট থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চ ফারহান-৩ এর কেবিনে যাত্রী হাতিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাসেমের ছেলে মো. ভুট্টো টাকা-মোবাইলসহ সব হারান। এ ঘটনায় জড়িত কেবিনবয় ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার টবগী গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে সালাউদ্দিনকে তমরদ্দি ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মামলা না করার ফয়সালা হয় বলে স্বীকার করেছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নুর হোসেন। তবে, ফারহান-৩ লঞ্চের মাস্টার বজলুর রহমান টাকার বিনিময়ে চুরির ঘটনা মিটমাট করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা এমনিই ভুট্টোর সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছি।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বিকেলে তাসরিফ-২ লঞ্চে তাসলিমা ও পপি নামের দুই নারীর টাকা, মোবাইল সেট এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রসহ সবকিছু হারান। এ ঘটনায় লঞ্চ কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। গত ১৪ ডিসেম্বর একই লঞ্চে চুরির অভিযোগে আটক হন লঞ্চটির ইলেক্ট্রশিয়ান আছাদ।
তাসরিফ-২ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. আলমগীর এ লঞ্চে বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন চুরির ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছি। এ ধরনের চুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে ঢাকা থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চগুলোতে। দেনদরবার, ক্ষতিপূরণ আদায়ের ফয়সালা বৈঠকও বসছে নিয়মিত। যাত্রীরা নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা চান লঞ্চ কর্র্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে।
