নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ভোটের রাতে চার সন্তানের জননীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারীর স্বামী। গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সিরাজ মিয়ার ভাষ্য, তার স্ত্রীকে নির্যাতনকারীদের মধ্যে এখনো হানিফ, আনোয়ার, চৌধুরী মিয়া, মোশাররফ ও সোহেল গ্রেপ্তার হয়নি। তারাসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও তাদের স্বজনরা তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকিধমকি দিচ্ছে। কারাগার থেকে মূল ইন্ধনদাতা রুহুল আমিন এই বলে হুমকি দিচ্ছেন যে, তিনি কয়েক দিনের মধ্যে ছাড়া পেয়ে তার ছেলেমেয়েসহ পরিবারকে কচুকাটা করে নদীতে ভাসিয়ে দেবেন।
সিরাজ অভিযোগ করে আরও জানান, তার স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ না হতেই ‘বিশেষ মহলের’ চাপে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে বাড়ি নিয়ে যান তিনি। গরিব বলে কোনো বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা করাতে পারেননি। বাড়িতে নেওয়ার ১০ দিন পরও তার স্ত্রী একা একা হাঁটতে পারছেন না। উঠে-বসতেও পারছেন না।
স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সিরাজ জানান, তার স্ত্রী এখনো রাতের বেলায় হঠাৎ চিৎকার করে তাকে না মারার অনুরোধ জানান। আবার মাঝে মাঝে তিনি নিশ্চুপ হয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা কারও সঙ্গে কথা বলেন না। শুধু বিড়বিড় করেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্লাহ বলেন, ‘এ ভিকটিমের মানসিক পুনর্বাসন দরকার।’
৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের রাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই নারী। তার অভিযোগ, ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় রুহুল আমিনের নির্দেশে তাকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে সহযোগীরা। ঘটনার পরের রাতে নোয়াখালীর চরজব্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগীর স্বামী।
ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য রুহুল আমিনকে আটকের পর ছেড়ে দেয়। পরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) নির্দেশে তিন দিন পর তাকে আবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় রুহুল আমিন ছাড়াও কারাগারে রয়েছেন সোহেল, স্বপন, বেচু, বাসু, আবুল হোসেন, ছালাউদ্দিন, মুরাদ হোসেন, হেঞ্জু মাঝি ওরপে বুলু ওরপে হাসান, জসিম উদ্দিন ও মুরাদ। এদের মধ্যে আটজন বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রুহুল আমিন, মুরাদ ও জসিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।
গ্রেপ্তারকৃত আটজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে বিচারিক হাকিমের কাছে জবানবন্দি দিলেও পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলার অভিযোগপত্র দিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ ওই নারীর দুই আইনজীবী আবদুর রহমান ও পলাশের।
