আশুলিয়ায় এবার মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে সোমবার সকালে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার দোসাইন এলাকার বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমামের কক্ষে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ইমাম আব্দুল্লাহ আল মামুন পলাতক থাকায় তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির খালু বলেন, আমার ভায়রা তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দোসাইদ এলাকার জুলফিকার রহমানের বাড়িতে ভাড়া থেকে রিকশা চালাতেন। তাদের বড় মেয়ে স্থানীয় বায়তুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে আরবি পড়তো। রোববার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো শিশুটি মক্তবে পড়তে গেলে ইমাম জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখান। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঘটনাটি জানাজানি হয়।
এ সময় স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল খালেক ও হোসেন মাস্টার এবং বাড়িওয়ালা জুলফিকার রহমান মিলে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু পরবর্তীতে কে বা কারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে মেয়ে এবং তার বাবা-মাকে থানায় নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, জুলফিকার মাদবর ও মেম্বারসহ এলাকার কয়েকজন মিলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ জন্য তারা ইমামকে নিজ কক্ষে আটকে রাখলেও পুলিশ আসার পর কৌশলে তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
অভিযুক্ত জুলফিকার মাদবর বলেন, ‘মান-সম্মানের কথা ভেবে আমরা চেষ্টা করেছিলাম যাতে বিষয়টি বেশিদূর না যায়। কিন্তু যেহেতু এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ এসে ভুক্তভোগীকে থানায় নিয়ে গেছে। এখন পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
আশুলিয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত ইমামকে আটকে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
