কুড়িগ্রামে ফুলচাষে সাফল্যের হাতছানি

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:১৮ এএম

বাণিজ্যিকভাবে ফুলচাষ শুরু হয়েছে কুড়িগ্রামে। স্থানীয় বাজারের মিটছে ফুলের চাহিদা। ভালো দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক। সরকার ফুলচাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে দিচ্ছে আর্থিক প্রণোদনা। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতায় জেলায় ফুলচাষে কৃষকদের মধ্যে বেড়েছে আগ্রহ।

এর আগে কুড়িগ্রামে নার্সারি পর্যায়ে স্বল্প পরিসরে কিছু ফুল চাষ ও চারা উৎপাদন হলেও জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু হয়েছে এবারই প্রথম। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, রাজারহাট, ফুলবাড়ী এবং নাগেশ্বরী উপজেলায় কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ফুলচাষ শুরু করছেন। ফুলচাষ লাভজনক হওয়ায় তাদের দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অন্য কৃষক। যশোর থেকে আনা রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, ক্যাবেজ, গোলাপের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত গাঁদা, প্রজাপতিসহ বিভিন্ন জাতের উন্নতমানের ফুল চাষ হচ্ছে এই জেলায়। রাজারহাটের ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বুলু জানান, তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই ফুল উৎপাদন করে বিক্রি করা যায়। ফুলচাষ লাভজনক হওয়ায় এলাকায় ফুলচাষের পরিধি দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে।

ছিনাই গ্রামের ফুলচাষি জাহানারা বেগম জানান, কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ফুলের বীজ ও মূল সরবরাহ করা হয়। তিনি গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, প্রজাপতি, চন্দ্রমল্লিকা, জিনিয়া ফুল চাষ করেন। তার ২০ শতাংশ জমিতে ফুল চাষ করে গত তিন মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন। এই এলাকার আরও একজন কৃষক আবদুস সালাম জানান, তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধার চাষ করেছিলেন। বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকার মতো আয় করেছেন।

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার মাটি ফুলচাষের জন্য উপযোগী। জেলায় এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ফুলচাষ হচ্ছে। এখানে প্রায় ১০ একর জমিতে প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলচাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন বলেন ধান, গম, পাট ও সবজির পাশাপাশি ফুলচাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে, কুড়িগ্রামের কৃষি-অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা। অর্থকরী ফসল হিসেবে ফুলচাষ করে তরুণরাও স্বাবলম্বী হতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত