সিলেট নগরীর ধোপাদিঘির পাড়ের ‘হাফিজ কমপ্লেক্স’ নামের বাড়িটি এখন মন্ত্রী বাড়ি হিসেবেই পরিচিত। এই বাড়ির মালিক প্রয়াত আবু আহমদ আবদুল হাফিজের ছেলে আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ১০ বছর অর্থমন্ত্রী ছিলেন। এখন আরেক ছেলে ড. এ কে আবদুল মোমেন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। আবদুল হাফিজের অন্য সন্তানরাও স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। তাই এই বাড়ির নামডাক অনেক। আর সেই বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি দামের জমি বিনা মূল্যে নিয়েছে সিটি করপোরেশন।
সড়ক প্রশস্ত করার জন্য সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হাফিজ কমপ্লেক্সের সামনের অংশের জমি ছাড়ার অনুরোধ জানালে তারা এতে সম্মতি দেন। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকে হাফিজ কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর ভেঙে, পুরোনো গাছ কেটে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনস্বার্থে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ছেড়ে দিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন তা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘নগরবাসীর স্বার্থে এভাবে আরও অনেকেও জমি ছাড়ছেন।’ তাই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাদেরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।’
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ধোপাদিঘির পাড়ের হাফিজ কমপ্লেক্স থেকে সোবহানীঘাট পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের জন্য কিছু জমি ছাড়ার অনুরোধ নিয়ে গত শনিবার হাফিজ কমপ্লেক্সে যান সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই, সাবেক সচিব এ কে আবদুল মুবিনের সঙ্গে তিনি এ নিয়ে আলাপ করেন। এরপর যতটুকু প্রয়োজন সে পরিমাণ জমি দিতে তারা সম্মতি দেন। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের বাড়ির সামনের অংশ থেকে ৫ ফুট চওড়া ও ২০০ ফুট লম্বায় মোট ১ হাজার বর্গফুট (২ দশমিক ৩ শতক) জমি সড়কের জন্য নেওয়া হচ্ছে। এই জমির বাজার দর অর্ধ কোটি টাকার উপরে হবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে হাফিজ কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে দেখা যায়, হাতুড়ি-শাবল দিয়ে সীমানা দেয়াল ভাঙছেন শ্রমিকরা। বড় কয়েকটি গাছও কাটা হয়েছে। মন্ত্রীর বাড়িতে এই ভাঙাভাঙি দেখে উৎসুক অনেকে সেখানে ভিড় করেছেন, এরপর ঘটনা শুনে প্রশংসা করছেন। এ রকমই একজন বন্দরবাজারের ব্যবসায়ী জাকারিয়া আহমদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রী-এমপিরা ক্ষমতার জোরে কত কিছুই করেন। কিন্তু এখানে এর উল্টোটা হচ্ছে। ক্ষমতায় থেকেও উনারা স্বেচ্ছায় বাড়ির জমি ছেড়ে দিচ্ছেন। এটা অনেক ইতিবাচক একটি খবর।’
