যৌন নিরাপত্তায় সচেতন করুন শিশুকে

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:০৬ এএম

যৌন নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করে তোলার জন্য পরিবারই শিশুর অন্যতম বিশ্বস্ত জায়গা। শিশুরা যৌন নিপীড়নের শিকার ও ভুক্তভোগী হয় সবচেয়ে বেশি। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা থেকে শিশুরা নিজেরাই যাতে নিজেদের নিরাপত্তা দিতে পারে, সেভাবে তাদের গড়ে তুলতে হবে। শিশু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে একটি সচেতনমূলক লেখা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হাফিংটন পোস্ট। ভাষান্তর : রাফসান গালিব

শরীর নিয়ে শিশুকে সচেতন করুন

বাবা-মাই শিশুকে সবচেয়ে যৌন নিরাপত্তার উত্তম শিক্ষা দিতে পারেন। তারাই সন্তানদের বেড়ে ওঠার সময় গড়ে দিতে পারেন নিরাপত্তার ভিত্তি। পরিবারের মধ্যে অহেতুক লজ্জা ও ভীতির দেয়াল থাকে না। নির্দ্বিধায় যেকোনো কিছু শেয়ার করার সুন্দর সংস্কৃতি তৈরি হয়। শরীরের গোপন অঙ্গগুলোর নাম, এগুলোকে কীভাবে নিরাপত্তা দিতে হবে, কীভাবে গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে আচরণ করতে হবেÑ এসব সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে শিশুকে। এতে স্কুলে যাওয়ার আগেই শিশুরা যৌন আচরণ বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠবে। যৌন নির্যাতন বিষয়ে শিশুর সামনে বড়রা যেসব কথা বলে থাকেন, সেগুলো কিন্তু শিশুর উপযোগী নয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এর মাধ্যমে বাবা-মা ও সন্তানদের মধ্যে মানসিক বন্ধন গাঢ় হয়।

সীমানা নির্ধারণ করে দিন

শিশুকে বুঝিয়ে বলতে হবে তার শরীরের বিশেষ অঙ্গগুলো কারা স্পর্শ করতে পারবে। বাবা-মা এবং ডাক্তাররা ছাড়া অন্য কেউ যাতে অযাচিত স্পর্শ না করতে পারে, সেদিকে তাকে সচেতন করতে হবে। কিছু আচরণের ব্যাপারে তাদের নিষেধ করতে হবে। যেমন : কোনো অনুষ্ঠানে অতিথিদের জড়িয়ে ধরা এবং অতিথিদের তাকে জড়িয়ে ধরতে দেওয়া, চুমু দেওয়া। পরিবারের বাইরের মানুষের সঙ্গে আচরণের জন্য তাকে একটি সীমানা নির্ধারণ করে দিতে হবে। তবে এমনভাবে সেটি করতে হবে, যাতে সে অস্বস্তি অনুভব না করে। যেমন : সুন্দর ও মজা করে গল্পের ছলে শিশুদের কাছে এসব উপস্থাপন করতে হবে।

শিশুর অনুভূতি প্রকাশে সহায়ক হন

শিশুরা তার ভালো লাগা, মন্দ লাগা সহজে প্রকাশ করে ফেলে। অনেক সময় তার শরীরের অনুভূতি বা আচরণ নিয়ে অপরিচিতদের সামনে এমন কিছু বলে ফেলে, যা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে থাকে। এ জন্য শিশুকে শেখাতে হবে সব ধরনের কথা বা অনুভূতি সবার সামনে প্রকাশ করা যাবে না। সুখ, দুঃখ, হাসি, আনন্দ, ব্যথা, রাগ, কান্নাÑ এসব অভিমানের অনুভূতি প্রকাশের ব্যাপারে তাকে সচেতন করে তুলতে হবে।

স্পর্শ সম্পর্কে সচেতন করুন

ঘরের বাইরে স্কুলে, মার্কেটে, উপাসনালয়ে, বিয়েবাড়িতে বা যেকোনো জায়গায় অন্যরা তার শরীর স্পর্শ করা নিয়ে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। ‘ভালো’ স্পর্শ, ‘খারাপ’ স্পর্শ, ‘নিরাপদ’ স্পর্শ, ‘অনিরাপদ’ স্পর্শ বিষয়ে সঠিক মাত্রায় বুঝিয়ে বলতে হবে। শিশু প্রথমেই এসব কঠিন বিষয় বুঝবে না, এটাই স্বাভাবিক। শিশুদের নিয়মিত সঙ্গ দিয়ে, গল্প করে, খেলতে খেলতে এসব বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

মনের কথা খুলে বলতে দিন

পরিবারে যাকে শিশুরা সবচেয়ে বেশি বিশ্বস্ত মনে করে, শিশু তাদের কাছে অনেক কিছু বলে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের কাছে। অনেক সময় শিশুর কথা উত্তরে শুধু ‘হুঁ, হ্যাঁ’ করে থাকি। এতে সে মনের কথা খুলে বলতে নিরুৎসাহিত হয়। শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, যাতে তার সব গোপন কথাও খুলে বলতে পারে, সেভাবেই প্রস্তুত করুন।

দোষারোপ করা উচিত নয়

যেকোনো কিছুতে শিশুর ভুল বা দোষত্রুটি ধরা উচিত নয়। এতে শিশু সবকিছুতে নিজেকে দোষী মনে করে। যৌন হেনস্তা বা নিপীড়নের ঘটনায়ও শিশুরা ভাবতে পারে এতে তার দোষ রয়েছে। ফলে সে কাউকে এই ঘটনার কথা বলতে চায় না। আবার অনেক সময় হেনস্তার কথা বাবা-মাকে বলার পর তারা উল্টো শিশুকে দায়ী করে থাকেন। যেমন : কেন তুমি ওখানে গেলে, কেন তার সঙ্গে মিশতে গেলে, কেন তার কথা শুনলে, কেন তার দেওয়া জিনিস খেতে গেলে ইত্যাদি। এতে মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে।

কাউন্সেলিং জরুরি

কোনোভাবেই শিশুর সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করা যাবে না। আগে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। শারীরিকভাবে কোনোভাবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না- সেটি ভালোভাবে দেখুন। যদি তেমন কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে তাকে ভালোভাবে কাউন্সেলিং করুন, বেশি বেশি সময় দিন। যদি আশঙ্কাজনক কিছু ঘটে থাকে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করুন। শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলাপ করতে পারেন। তারপর, সবার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিন কীভাবে আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত