সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:২৩ পিএম

বাণিজ্যযুদ্ধের জেরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে অগ্রগতির বিষয়টি প্রকাশ করেছে আলজাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব শিগগির চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করবেন। তখন দুই নেতার মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলেও জানা যায়।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে দুদিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই বৈঠক চলাকালীন হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১ মার্চের মধ্যে দুই পক্ষ কোনো কার্যকরী চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চীনের ২০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত কর ধার্য করবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গত বছর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে মোট ৩৬০ বিলিয়ন পণ্যের ওপর উভয় পক্ষ করারোপ করেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক অবনমন ঘটে। মার্চে দুই পক্ষ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারলে ২০১৯ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চরম মূল্য দিতে হবে।

দুই দিনের বৈঠকে চীনের ভাইস প্রিমিয়ার লু হী আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, দুই পরাশক্তির দেশ সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে। তবে হী’র এমন বক্তব্যে আশার আলো দেখতে পারছেন না বিশ্লেষকরা। কারণ হিসেবে তারা সম্প্রতি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মদদে কানাডার নেওয়া পদক্ষেপকে সামনে তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ চলতি সপ্তাহে হুয়াওয়ের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। চীনও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কানাডার কয়েকজন নাগরিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।

চলতি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটহাইজার এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি মুচিন বাণিজ্য আলোচনার জন্য বেইজিংয়ে যাবেন। তবে ঠিক কত তারিখে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি কোনো পক্ষই। এদিকে গতকাল শুক্রবার সীমান্ত দেয়াল নিয়ে ট্রাম্প বলেন, দেয়াল নিয়ে আলোচনা সময় নষ্ট করার সমান।

বাণিজ্য আলোচনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন চাষিরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধের কারণে চাষিরা তাদের উৎপাদিত সয়াবিন আগের নির্ধারিত মূল্যে চীনে পাঠাতে পারছে। চীন প্রতিদিন পাঁচ মিলিয়ন টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এর বিপরীতে চীনের পণ্য অধিক হারে কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানায়। তবে ওয়াশিংটন ডিসি এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত