রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খাদ্যে ভেজাল দেওয়াও দুর্নীতি : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৬ এএম

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, খাদ্যে ভেজাল কিছু মানুষের চরিত্রগত বদভ্যাস এবং এটা এক ধরনের দুর্নীতি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান শুরু করবে সরকার। এর ভেজাল বন্ধে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় আমরা তা করব।

গতকাল রবিবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সব ধরনের খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে, আপনারা জানেন আমরা এরই মধ্যে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। সেখানে আমরা সফলতা অর্জন করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধেওÑ এই ভেজাল দেওয়াও এক ধরনের দুর্নীতি। কাজেই দুর্নীতির বিরুদ্ধেও আমরা আমাদের অভিযান চালাচ্ছি। ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, এটা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভেজালবিরোধী অভিযান চলছে সেটাকে আরও ব্যাপকভাবে করার জন্য আলাদাভাবে একটা কর্র্তৃপক্ষই করে দিয়েছি। সুস্বাস্থ্যের মানুষ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় মিলে আমরা কর্র্তৃপক্ষ করে দিয়েছি। ভেজাল বন্ধে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ   করে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ সচেতন হলে কেউ খাবার নিয়ে জনগণকে ঠকাতে পারবে না। দোকানের খাবার, হোটেল-রেস্তোরাঁর বিভিন্ন খাবারে যে ভেজাল বা বাসি-পচা বা বিভিন্ন ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে, সেগুলোর ব্যাপারে সবাইকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। এখানে নাগরিক সচেতনতা একান্তভাবে প্রয়োজন। এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের আরও তৎপর হতে হবে। ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভেজাল আমরা দূর করব। কোনো বিষক্রিয়ায় আমাদের দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, সেটা আমরা চাই না। ভেজাল করে মানুষের ক্ষতি করা, মানুষের জীবন ধ্বংস করা, এটার অধিকার কারও নেই।

প্রধানমন্ত্রী খাদ্যে ভেজাল সৃষ্টিকারীদের ভর্ৎসনা দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করা দরকার যে আপনি কেন ভেজাল দিয়ে বিক্রি করবেন। আপনি ভালোটাই বিক্রি করেন, আপনার যে দাম পড়ে সেই দাম নেন। লাভ নিতে চান, লাভও নেন। কিন্তু যেটা করবেন ভালোভাবে করবেন। ভেজাল করা যাবে না। ভেজাল বন্ধে খাদ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিশেষ ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্য জিনিসগুলো টেস্ট করার জন্য বিএসটিআইকে আমরা আধুনিক ও উন্নত করেছি। কিন্তু আলাদাভাবে খাদ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ ল্যাবরেটরি একান্তভাবে প্রয়োজন এবং সেই ল্যাবরেটরি আমরা করে দেব। খাদ্য পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ও বিভাগীয় পর্যায়ে এই বিশেষ ল্যাবরেটরি করা হবে। একটা কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি থাকবে, পাশাপাশি প্রত্যেকটা বিভাগেও ল্যাবরেটরি থাকবে। যাতে যেকোনো সময় আমরা যেকোনো খাদ্য সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখতে পারি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত