শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ ১৬ ফেব্রুয়ারি

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৫৩ এএম

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের উপস্থিতিতে মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি শুরু করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। ইয়াবা পাচারবিরোধী টাস্কফোর্স ও কক্সবাজার জেলা পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারী ৭০ কারবারির তালিকা সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি

নিয়েছি। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘অনানুষ্ঠানিকভাবে সবার সঙ্গে আলোচনা চলছে। আয়োজন চূড়ান্ত হলেই সবাইকে জানানো হবে।’ জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদক কারবারিদের আত্মসর্মপণে সরকারের সব সংস্থাই সহযোগিতা করছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ১০০-২০০ মাদক কারবারির আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি। আত্মসমর্পণের নির্ধারিত দিন ছাড়া বলা যাচ্ছে না আসলে কতজন আত্মসমর্পণ করবে। তবে ওইদিন যারা আসবে তাদেরই আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হবে।’ তবে জেলার আরেক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এরমধ্যে আত্মসমর্পণকারী ৬৫-৭০ জন ইয়াবা কারবারির তালিকা করা হয়েছে, যারা প্রত্যেকেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছে। এর বাইরে পুলিশের তালিকায় আরও প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন মাদক কারাবরি রয়েছে। তাদের সবার জন্যই আত্মসমর্পণের সুযোগ থাকবে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘অনেকেই আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছে। মাদক কারবারি হিসেবে তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেকে স্বীকার করছে না সে মাদক কারবারি। যারা নিজেদের ইচ্ছায় আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছে তাদের তালিকা করে এরই মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে জেলা ইয়াবা পাচারবিরোধী টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সরকারি দুটি গোয়েন্দা সংস্থা। তবে টাস্কফোর্সের স্থানীয় পর্যায়ের সদস্যরা এ বিষয়ে অবহিত না হলেও উচ্চপর্যায়ের সবার সঙ্গেই সমন্বয় করে এই আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ বিস্তারিত বলতে পারবে। আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না।’ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি যে আত্মসমর্পণের আয়োজন করা হচ্ছেÑ সে বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। এ সংক্রান্তে টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে স্থানীয় একাধিক সংস্থাও তাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান দপ্তরে পাঠিয়েছে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক মাদক কারবারি গডফাদারের তালিকা স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই তালিকা পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ আত্মসমর্পণের আইনগত দিকগুলোও খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। পুলিশ সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরপরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আত্মসমর্পণের ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কেউ অবহিত করেনি। কোনো মাদক কারবারিও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে এই ধরনের তথ্য পেয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত